।। কনটেন্ট এডিটর, সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক ।।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দেশের জাতীয় পতাকা বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদকও রয়েছেন। বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস উদযাপনকালে এই শিক্ষকরা যে পতাকাটি ব্যবহার করেন, সেটি লাল বৃত্তের বদলে লাল চারকোনা আকৃতিতে তৈরি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই আয়োজনের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সর্বপ্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি পোস্ট দিয়ে সমালোচনায় সরব হন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুল হক।

তিনি লেখেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে লজ্জিত, কারণ এরা সবাই ‘শিক্ষক’!” এরপরই সেই ছবি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে জাতীয় পতাকা বিকৃতির অভিযোগ এনে নানা মন্তব্য আসতে থাকে। অনেকেই এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

ছবিতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান, বাংলা বিভাগের প্রধান ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পরিচালক অধ্যাপক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সহকারী প্রভোস্ট ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক সোহাগ আলী, একই হলের সহকারী প্রভোস্ট ও রসায়ন বিভাগের প্রভাষক শরাফত কাইয়ুম, শহীদ মুখতার ইলাহি হলের সহকারী প্রভোস্ট, ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শামীম হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাসুদুল হাসান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রামপ্রসাদ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মো. রহমতউল্লাহ হাসিমুখে বিকৃত পতাকা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন।

তাবিউর রহমান প্রধানের প্রথম ব্যাখ্যা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরুর পর বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) তাবিউর রহমান প্রধান বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকেই পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, পতাকাটা কে এনেছে সেটা তারা জানতেন না। ছবি তোলার জন্য কেউ সেই পতাকা নিয়ে ডেকেছে এজন্য তারা গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। পতাকার দিকে খেয়াল করেননি। 

তাবিউর ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, পুরো ব্যাপারটিই ভুল বোঝাবুঝি। এঘটনায় তাদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিলো বলে আত্মসমালোচনা করে সেখানে তিনি দুঃখ প্রকাশও করেন। যদিও ফেসবুকে পোস্টটি দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাবিউর রহমানের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সেটি ‘উধাও’ হয়ে যায়। পোস্টটি ‘উধাও’ হওয়া নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হাজির করেন।

তাবিউর রহমানের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা

সেখানে তিনি দাবি করেন, যেখানে আইন অনুযায়ী পতাকা ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেখানেই শুধু এর সঠিক মাপ এবং সঠিক ব্যবহার প্রযোজ্য। বিজয় দিবসের আয়োজনে পতাকা হিসেবে সেটি ব্যবহৃত হয়নি বলে দাবি করে তাবিউর তার পোস্টে লেখেন, “লাল সবুজ রংয়ের কাপড়ের অন্যকিছুর ব্যবহার কোনোভাবেই জাতীয় পতাকার সাথে তুলনা করা আমাদের কাম্য নয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, পতাকা হিসেবে নয়, লাল সবুজ কাপড় হিসেবে তারা ব্যবহার করলেও এটিকে অপব্যাখ্যা দিয়ে অনেকে প্রচার করছেন। তার দাবি, প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ‘সেন্সেশন’ তৈরির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে তাবিউর রহমানের টাইমলাইন থেকে সেই পোস্টটিও ‘উধাও’ হয়ে যায়। তার অন্য পোস্টে অনেককেই তার দুটি ব্যাখ্যার স্ক্রিনসট তুলে দিয়ে অভিযোগ করা হয়, দুটি পোস্টই তিনি মুছে ফেলেছেন।

শুধু তাবিউরই নন, ছবিতে থাকা আরেক শিক্ষক রহমউল্লাহও দাবি করেন, ছবির কাপড়টি জাতীয় পতাকা নয়। সেটিকে শুধুমাত্র ছবি তোলার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

তাদের এসব দাবি আর ব্যাখ্যাতেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি নেটিজেনরা। শিক্ষার্থীরা তো আছেনই, অনেক শিক্ষক ও সাংবাদিককেও বিষয়টি নিয়ে সরব হতে দেখা গেছে।

বেরোবি সাংবাদিকতা বিভাগেরই আরেক শিক্ষক তাসনিম হামিদা লিখেছেন, “ছিহ…ধিক্কার জানাই। এভাবে জাতীয় পতাকার অবমাননা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।” বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক মন্তব্য করেন, “আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব হয়ে পড়েছে সবকিছু। কেউ একবার পতাকাটা চেয়েও দেখেনি। সবার চোখ ক্যামেরার দিকে।”