নির্জন পোশাকের বৃত্তান্ত

খুব আকাশ আর নোনতা ঘরদুয়ার, ওইদিকটায়
জন্ম নেয় নির্জন পোশাক।

ফজরের ওয়াক্তে পুকুরপাড় ব্যাঙাচির ঘুম যেন, তখনও
অন্ধকার জ্ঞান। ক্যারাভ্যানের নির্বেদ ছড়িয়ে যায় নিস্তব্ধতা ছিঁড়ে ফেলার মত করে। প্রান্তিক খামারবাড়ির জানালার কাছাকাছি
মেষপালকের ছায়ায় ভোররাতের উল্কাপতনের মেকানিজম খসে পড়ে। আর অতদূর সুপারিবনে হাওয়ায় ভাসানো কন্ঠস্বরগুলো, যেন
অতীতের হাত ধরাধরি ভাইবোন…

আগুর রাইক্ষেত থেকে উঠে আসা মিশালি বাতাস… মাফলারের ফাঁকফোকর দিয়ে কানে ঢুকে, শিরশিরিয়ে।

বুধবার লালবাগ হাট
অনুপ আর তার মেজছেলে জলঘাটে ধোয় ঢ্যাঁড়স, বেগুন, নাপাশাক
হাত ছলকে পড়ে কিছু ব্যাঙাচির ঘুম

ওইদিকটায় খুব আকাশ
আলগোছে হাওয়া দিলে আকাশ আরও উঁচুতে উঠে, পাখনা ছড়ায়
মেঘের ভার ঠেলে তৈরি হয় পাখি যাতায়াতের পথ

শীত এলে অসুখ খোঁজার মতন করে
মাধুকরী, তুমি স্টেথোস্কোপ ধর বুকে, পাজরে
কান পেতে শোন কুয়াশার মত নরম মৃত্যু

পেসমেকারের তন্ময়তা

বালিশের নিচে দেশলাইয়ের উপদ্রব বাড়ে
ভাবনার দেয়াল টপকে
শরীর ফুঁড়ে ঢুকে পড়ে ঘুমঘুম এক শুশ্রূষা।

ইঁদারার মুখে যখন ঝুকে পড়ে মেঘেদের কার্নিভাল
অসময়ের বৃষ্টিতে গায়েত্রী মন্ত্র ছড়িয়ে দেয় কেউ
বোধহয়, এইসবই বিগতরাতের না ঝরা কুয়াশার আস্ফালন। অথচ নভেম্বর… প্রাপ্তবয়স্কতার অজুহাতে এভাবে মাঝপথে সিনেমা ভেঙে যায়। আর কখনও কখনও আশ্চর্যবোধক চিহ্ন সরিয়ে ইউক্যারিওটের অনার্য সূত্র টের পাও?

সে সবই যোগাসন যেন…

পৃথিবীর মেরুন বিকেলগুলোকে ভাতঘুম নামে ডেকো, এই বলে
পেসমেকারের তন্ময়তা নিয়ে চলে যায় একদল পাহাড়ি ভান্তে

মিথ ও মিথ্যার সিমবায়োসিস

মুঠোর মধ্যে শস্যদানার নাজুক আচরণই পৃথিবীর যাবতীয় তীর-ধনুক লুকিয়ে ফেলেছে। আর আমরা চাঁদের বুড়ির গীবত গাওয়া হালকা কিছু চরিত্র… ঘুমের ভিতর হাতকড়া পরে থাকি।

রাত্তিরে খুব হলুদ রক্তের কারবার
জামায় লেগে আছে রিভেঞ্জ
ক্যাম্পিংয়ে চুইয়ে পড়ে—
নুনে জারানো মাংসের প্রোটিনসমৃদ্ধ সিমবায়োসিস
এসবই মিথ ও মিথ্যার স্কুলে শিখানো কুরুশ-কাঁটার সপ্তপদী ঘর

এত ব্যক্তিগত বসে থাকা, শোকের মত সব মুহূর্ত
এ্যালান পোর সাথে মিলিয়ে চোখ খোলা রেখে ভাবি,
গাছেদের যাবার জায়গা নেই কোথাও
তাই তারা কফিকালারের বনবাস হয়,
আর খুব বাতাসের দিনে
শহরে উড়ায় নানখাতাইয়ের মলমলি সুবাস।

প্রচ্ছদ হিম ঋতব্রত