জ্যোতি বসুকে যা বলেছিলেন ম্যারাডোনা

।। আজতাক বাংলা, কলকাতা ।।

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতায় যান দিয়েগো ম্যারাডোনা। উদ্দেশ্য ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তার প্রচার। তাঁকে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন বামফ্রন্টের মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী, সাংসদ শমীক লাহিড়ী। ম্যারাডোনার আগমন ঘিরে হিল্লোল উঠেছিল কলকাতায়। রাত জেগেছিল শহর। আর সেই অভ্যর্থনা ছুঁয়ে গিয়েছিল তাঁকে। শীতের রাতে হাজার হাজার মানুষের ভিড় দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

আরও অনেক কর্মসূচির মধ্যে একটি ছিল জ্যোতি বসুর সঙ্গে দেখা করা। শমীক লাহিড়ী তাঁকে জানিয়েছিলেন, কলকাতায় এলে ফিদেলের এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হবে। সেই সাক্ষাৎ এক ইতিহাস। খুব অল্প সময় সেখানে ছিলেন। কেন সেখানে নিয়ে আসা হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় সামান্য ছিল। তবে সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই দেখতে পান জ্যোতি বসুর সঙ্গে ফিদেল কাস্ত্রোর ছবি। ব্যস, সব সংশয় দূর হয়ে যায়।

আর জন্ম নেয় এক খুব সাধারণ সমীকরণ। ”আপনি ফিদেলের কাছের মানুষ, মানে আমারও কাছের।” শীতের কলকাতা দেখতে পেল দুই প্রবাদপ্রতিম মানুষের বন্ধুত্বের জন্ম হচ্ছে। ততক্ষণে তাঁকে মুগ্ধতা ঘিরে ফেলেছে। অনেক দিন আগে ফিদেল এসেছিলেন কলকাতায়। তাঁর ছবি দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল একটি অ্যালবাম। জ্যোতি বসু সেই ছবির অ্যালবাম তুলে দেন ম্যারাডোনার হাতে। দেশে ফেরার সময় সঙ্গীদের কাছ থেকে বার বার জিজ্ঞেস করছিলেন, ”ওই অ্যালবামটি নিতে ভুলে যাননি তো?”

আর জিজ্ঞেস করবেনই না কেন? তাঁর কাছে চে গুয়েভারা ছিল স্বপ্ন, ফিদেল কাস্ত্রো আদর্শ আর হুগো শ্যাভেজ প্রিয় বন্ধু। তাঁর বাঁ পায়ের জাদুতে দুনিয়া মজে। আর সেই বাঁ পা উৎসর্গ করেছিলেন ফিদেলকে, তাঁর ট্যাটু এঁকে। কাজেই বন্ধু-আদর্শের ছবির অ্যালবাম নিয়ে বাড়তি সতর্ক তো থাকতেই হয়।

সারা জীবন প্রান্তিক, শোষিক মানুষদের হয়ে গলা ফাটাতে দু’বার ভাবেননি। সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করতে গিয়ে সমালোচনা করতে ছাড়েননি প্রবল ক্ষমতাধর তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান জর্জ বুশকে। চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন পোপকেও। মার্কিন সাম্রাজ্যাবাদের বিরোধিতা করতে গিয়ে খোলাখুলি বলেছিলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে যা আসে, সব অপছন্দ করি।”

১৯৮৭ সালে তৎকালীন পোপ দ্বিতীয় জন পলের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল তাঁর। ভ্য়াটিক্য়ান সিটিতে। পোপ দুনিয়ার গরিব মানুষের দুর্দশা নিয়ে চিন্তার কথা তাঁকে জানিয়েছিলেন। আর ম্যারাডোনা জবাব দিয়েছিলেন তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে। তিনি বলেছিলেন, “সোনার তৈরি আপনাদের এই ঝাঁ চকচকে সিলিং বিক্রি করে দিন। কিছু তো করুন!”