।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার, পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ৪ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহত জুয়েলের স্ত্রী, বোন এবং স্বজনরা। শনিবার (২১ নভেম্বর) বেলা ১২টায় রংপুর নগরের শালবন এলাকায় অবস্থিত নিহত জুয়েলের বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় এলাকাবাসীও উপস্থিত ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি। বক্তব্য দেন নিহত জুয়েলের বড় বোন লিপি, স্ত্রী জেসমিন আখতার। উপস্থিত ছিলেন জুয়েলের দুই পুত্র ও কন্যা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ অক্টোবর বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা এবং লাশ পুড়িয়ে ছাই করা হয়েছে। সভ্য সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন ঘটনা বিস্ময়কর, অভাবনীয় ও উদ্বেগজনক। ওই ঘটনার সময় পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকলেও পশুদের নিবৃত করতে পারেনি। বরং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবুল উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে। অন্যদিকে ইউপি সদস্য হাফিজুল ইসলাম জুয়েলের শার্টের কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু মামলায় তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই জনকে গ্রেফতার করা হলেও বাকিদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। বরং নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করে পুলিশ গ্রেফতারের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ স্থানীয় বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে লাখ লাখ টাকা দাবি করছে, টাকা না দিলে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ গ্রেফতার বাণিজ্য করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

নিহত জুয়েলের স্বজনরা অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদের কোনও বক্তব্য নেয়নি। এমন কি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাও তাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি। ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তারা দেখেছেন। প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার না করে নিরীহ লোকদের গ্রেফতার করা হলে মামলাটি বিচারের সময় বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

নিহত জুয়েলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মুক্তা বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বড় বড় অনেক প্রভাবশালীরা জড়িত ছিলেন। তারা জুয়েলকে হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে ফেলার ব্যাপারে উস্কানি দিয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে কোনও উদ্যোগ দেখছি না।

এলাকাবাসীর পক্ষে জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, বুড়িমারীর বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়ে পুলিশ নানাভাবে হুমকিধমকি দিয়ে টাকা দাবি করছেন বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু আমাদের দাবি প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার করতে হবে। আর এই মামলার বিচার বা তদন্ত আমরা পাটগ্রাম পুলিশের কাছে নিরপেক্ষভাবে পাবো না। সে কারণে মামলাটি তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে জুয়েল পবিত্র কোরআনের কোনও অবমাননা করেনি। ফলে যারা তাকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করলো তাদের বাদ দিয়ে নিরীহ মানুষকে এই মামলায় জড়ানো হোক তা আমরা চাই না।

সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি পেশ করা হয়। এগুলো হলো জুয়েলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মুক্তাকে একটি সরকারি চাকরি দেওয়া, খুনিরা যারা এখনও গ্রেফতার হয়নি তাদের গ্রেফতারে চলমান প্রক্রিয়া জোরদার করা, জুয়েল হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে সম্পন্ন করা এবং ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলাটি রংপুরে স্থানান্তর করা।

সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন, জোবায়দুল ইসলাম বুলেট ও অ্যাডভোকেট অলক নাথ।