জোনায়েদ সাকি বললেন, ভারত বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব করতে চায়

।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

দেশকে ‘খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে’ থাকতে দেখছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তার মতে, সমসাময়িক বিশ্বপ্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এক সংকটাপণ্ণ সময়ে। এ থেকে মুক্তি পেতে দিশা হতে পারে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর জীবনসংগ্রাম।

রোববার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার বড় মসজিদ এলাকায় দলীয় এক সমাবেশে এসব কথা বলেন সাকি। গণসংহতি আন্দোলন রাজশাহী জেলা শাখার আয়োজনে এই সমাবেশে প্রধান আলোচ্য ছিলো “মওলানা ভাসানী ও আমাদের সময়ের রাজনীতি” বিষয়ে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দলের এই শীর্ষ নেতা বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘তারা লুটপাটের স্বার্থে মানুষের টুঁটি চেপে ধরেছে। সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে।’ জোনায়েদ সাকি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র হরণের’ অভিযোগ এনে বলেন, ‘তারা বলে, তারা নাকি ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু তারা আসলে কেমন ভোট করেছে তা আমরা সবাই দেখেছি।’

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এর আগে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হওয়া এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে এই নির্বাচন কমিশন অতীতের সব খারাপ দৃষ্টান্ত ছাড়িয়ে গেছে। একদিন এই সিইসির বিচার জনগণ করবে।’

সাবেক এই ছাত্রনেতা দাবি করেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে দেশকে বিভাজিত করেছে। সেই বিভাজনের সুযোগ নিয়ে সংঘাত তৈরি হচ্ছে। আর সেই সংঘাত দমনের নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে তারা নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করছে।’

সাকি জনগণের মুক্তির সংগ্রামে নানা সময়ে মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরে বলেন, ‘তিনি এমনকি নিজের দলের সঙ্গেও আপস করেননি।’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভাসানীর অবদানের কথা উল্লেখের পর ভারতের সমালোচনা করে সাকি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একদিকে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করেছে, অন্যদিকে দেশটাকে নিজেদের করায়ত্বে রাখার সমস্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছে। শুরু থেকেই ভারত এদেশের ওপর নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।’ এসময় সাকি স্বাধীনতার পর থেকে ক্ষমতায় থাকা সব সরকারই ভারতকে সুবিধা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

গণসংহতি আন্দোলন রাজশাহীর সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে সাকি দেশের সংবিধান প্রণয়নকালে মাওলানা ভাসানীর অবস্থান তুলে ধরে তার সঙ্গে একমত পোষণের সুরে বলেন, ‘বাহাত্তরে যে গণপরিষদ এটা (সংবিধান প্রণয়ন) করেছে, সেটা তারা কীভাবে করে? প্রয়োজন ছিলো বাহাত্তরেই নতুন একটা নির্বাচন দেয়ার। অথচ তা না করে তারা সেই সত্তুরের নির্বাচনে গঠিত গণপরিষদই রাখলেন। যার অন্তত ৬০ জন সদস্য ছিলেনই না। এর অর্থ হলো কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই সেই গণপরিষদ সংবিধান প্রণয়ন করলো।’

বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ তুলে ধরে সাকি বলেন, ‘সেই সরকারকে নামানোর জন্য প্রয়োজন ছিলো একটা জনগণতান্ত্রিক আন্দোলনের। অথচ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট এক নৃশংস ও ইতিহাসে জঘন্যতম নিন্দনীয় হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশবিরোধী একটি শক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিকে চিরতরে ভুল পথে পরিচালিত করে দিয়ে গেলো।’

সমসাময়িক বাংলাদেশের আলোচিত তরুণ এই রাজনীতিক বলেন, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি যেখানে দাঁড়িয়ে তাতে ভারত মহাসাগরের দখল নিয়ে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র-চীনসহ পৃথিবীর বড় বড় শক্তি। সেখানে ভূকৌশলগত কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ। এখন আমরা যদি একটা জাতীয় ঐক্যমত্যের মধ্যে আর গণতান্ত্রিক পরিবেশে থাকতাম, তাহলে আমাদের অনেক সুবিধা আদায় করে নিতে পারতাম। অথচ আমাদের শাসকরা উল্টো পথে হাঁটছে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে তাদেরই তাবেদারি করছে।’

জোনায়েদ সাকি এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ‘আশু কর্তব্য’ হিসেবে বর্তমান সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার ও ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রাম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

Berger Weather Coat