ঢাকায় বাসে আগুন দিয়ে নাশকতার সিসিটিভি ফুটেজ

বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন

বছর পাঁচেক পর আবারও নাশকতার আগুনে বাস পুড়তে দেখলো রাজধানী। ২০১৫ সালে সবশেষ বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকারবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে যানবাহনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছিলো। বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) আবারও একদিনে ঢাকায় ১০টি বাসে আগুন দেয়া হয়।

রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য হাজির করেছে। আর আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এই ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে মনে করছে। তারা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে। এরই মধ্যে বিএনপির দুই নেতার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে, যেখানে যুবদলের কর্মীরা এই আগুন লাগিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার  দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে নয়াপল্টনে, গুলিস্তান, আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে, সচিবালয়ের উত্তর পাশে,পুরান ঢাকার নয়াবাজারে, পল্টন, মতিঝিল ও ভাটারা এলাকায় ১০ টি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ থেকে এরই মধ্যে একাধিক ঘটনায় দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করার কাজ করছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন বলেন, ‘একই সময়ে এতোগুলো স্পটে আগুন লাগার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। এসব ঘটনার কয়েকটির সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছি। সেগুলো থেকে অপরাধীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।’

ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিটি ঘটনা একইভাবে ঘটানো হয়েছে। যে কটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতে কয়েকজনের চেহারা স্পষ্ট দেখা গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে পল্টন থানাধীন বিএনপি পার্টি অফিসের উত্তর পাশে কর অঞ্চল ১৫ পার্কিং করা সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর ১টার দিকে মতিঝিল থানাধীন মধুমিতা সিনেমা হলের সামনে অগ্রণী ব্যাংকের স্টাফ বাসে, ১টা ২৫ মিনিটে রমনা হোটেলের সামনে চলতি গাড়ি ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনে, শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে দেড়টার দিকে দেওয়ান পরিবহনে, ২টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের উত্তর পাশে রজনীগন্ধা পরিবহন এবং বংশাল থানাধীন নয়াবাজার এলাকায় ২টা ২৫ মিনিটে দিশারী পরিবহনে আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া ২টা ৪৫ মিনিটে পল্টন থানাধীন পার্কলিং-এ জৈনপুরী পরিবহন, বিকেল ৩টায় মতিঝিল থানাধীন পুবালী পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন দোতলা বিআরটিসি বাসে এবং ভাটারা থানাধীন কোকাকোলা মোড়ে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ডিএমপির মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে বাসে আগুন দেয়ার এসব ঘটনায় বেশকিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সড়কে বাস পার্কিং করে না রাখার কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতেও চালক ও বাস শ্রমিকদের বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসে আগুন দেয়ার ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ ও ‍যুবলীগ। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে বলে দাবি করে অভিযোগ করা হয়, দেশকে অস্থিতিশীল করতে নীলনকশার অংশ হিসেবে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে বিএনপি। বিএনপির এই নীলনকশা বাস্তবায়িত হবে না।

অন্যদিকে রাতে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক। বিএনপির ওপর দোষ চাপাতেই এমন ঘটনা বলে উল্লেখ করে দলটি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও সংবাদমাধ্যমে পাঠায়।

এদিকে, এদিন প্রথম বাসে আগুন দেয়ার পরপরই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন ফোনে কথা বলেন। তিনি তখন দলীয় কার্যালয়ের আটকা ছিলেন। সেই কথোপকথনে ফরিদা ইয়াসমিন জানান, যুবদলের কর্মীরাই আগুন দেয় বাসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আসা কথোপকথনটি এমন-

ফরিদা: দাদা আদাব। আমি ফরিদা বলছি। পার্টি অফিসে তো আমি আটকা পড়েছিলাম এতক্ষণ। ওই যে গাড়ি পুড়াইছে ছেলেপেলে। ১১টার সময় আসছি প্রেস কনফারেন্সে, এখন তো এখানে আটকা পড়ে দেরি হয়ে গেলো।

নিতাই: গাড়ি পুড়াই ফেলছে?

ফরিদা: হ্যাঁ…হ্যাঁ…।

নিতাই: কোন জায়গা?

ফরিদা: এই যে পার্টি অফিসের সামনেই, স্টাফ গাড়ি পুড়াইছে। র‌্যাব, পুলিশ সব পুড়া পার্টি অফিস ঘেরাও দিয়ে রাখছে।

নিতাই: গাড়ি কোনটা পুড়াইছে?

ফরিদা: স্টাফ…পুলিশের স্টাফ গাড়ি থাকে না? ওগুলোর মধ্যে আগুন দিছে যুবদলের ছেলেরা।

নিতাই: কয়টা, কয়টা গাড়ি?

ফরিদা: পার্টি অফিসের সামনেই। একটা গাড়ি।

ফরিদা ইয়াসমিন দলীয় অফিসে আটকে থাকার পরে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় বের হয়েছেন বলে নিতাই রায় চৌধুরীকে জানান।

Berger Weather Coat