যুক্তরাষ্ট্রে বামপন্থার উত্থান?

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

  • ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই জো বাইডেনকে ‘বামপন্থি’ বলে আসছেন। সবশেষ এ নিয়ে তার বক্তব্য ছিলো, ‘যদি বাইডেন এবং কমলা হ্যারিস জেতেন তবে আমাদের দেশ আর কোনও দিনই আগের মতো থাকবে না। কারণ যদি তাঁরা জেতেন তাহলে দেশকে তাঁরা অতি বামপন্থার রাস্তায় নিয়ে যাবেন।’ এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘যদি ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচিত হন, তাহলে কমলা হারিস এই প্রশাসনের সব সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের থেকেও বড় অতি বামপন্থি তিনি।’
  • মার্কিন বুদ্ধিজীবী ও ভাষাতাত্ত্বিক নোম চমস্কি নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই বলে আসছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরানোই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর তা করতে হলে দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে ভোট দিতে হবে জো বাইডেনকে। কারণ এসব রাজ্যে বাইডেনকে ভোট না দেয়ার অর্থ হলো ট্রাম্পকে জিততে সাহায্য করা।
  • কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সম্পাদক বামপন্থি হিসেবে পরিচিত অ্যাংলো-মার্কিন সাংবাদিক নাথান জে. রবিনসন লেখেন, ‘এখন যে পরিস্থিতি তাতে বাইডেনের প্রেসিডেন্সি আগামী দিনে এদেশের বামপন্থি রাজনীতির সাফল্যের যেকোনো রূপের পূর্বশর্ত। ডেমোক্র্যাটদের কাছে আমাদের সব প্রত্যাশা পূরণের আশা করা যাবে না। তবে আগে ট্রাম্পকে বিদায় করতে হবে।’

মার্কিন নির্বাচনের আগে তিন ব্যক্তির কাছ থেকে আসা এই তিন ধরনের বক্তব্যই দেশটির আগামী দিনের রাজনীতিতে বামপন্থার উত্থান ঘটবে কি না সে আলোচনা উস্কে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিস জুটি নির্বাচিত হবার পর সেই আলোচনা আরও জোরেশোরে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আসলেই কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বামপন্থা ভবিষ্যৎ রাজনীতি হিসেবে উঠে আসবে?

মার্কিন মুলুকে বামপন্থার অতীত

যুক্তরাষ্ট্রে কখনই শক্তিশালী বাম আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কমিউনিস্ট পার্টিকে সব সময় যেতে হয়েছে নানা দমন পীড়নের মধ্যে দিয়ে।

সমাজতন্ত্রের ধারণা কোনো অবস্থায় যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিকাশ না ঘটে, তার জন্য চল্লিশের দশকের শেষের দিকে সিনেটর ম্যাকার্থির প্রস্তাবনায় করা হয় কুখ্যাত ম্যাকার্থি আইন। এ আইন বলে মুক্তচিন্তার দেশ দাবিদার যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে বহু অধ্যাপককে মার্কসবাদী তকমা দিয়ে বহিষ্কার করা হয়। নিশ্চিত করা হয় বামপন্থার সাথে যুক্ত কেউ যাতে সরকারি/বেসরকারি চাকুরী না পায়, সে ব্যবস্থাও।

নোম চমস্কি

নানা রকম দমন, পীড়ন, হুলিয়া, জেল, জুলুম ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি চেষ্টা করেছে তাদের সংগঠন টিকিয়ে রাখবার। প্রতিকূলতার মাঝেও তারা মাঝখানে পরপর দুইবার বাদ দিয়ে ১৯২৪ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত একটানা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। তাদের সর্বোচ্চ নির্বাচনী সাফল্য ছিল ১৯২৪ সালে। ওই নির্বাচনে দলের প্রার্থী উইলিয়াম ফস্টার প্রদত্ত ভোটের ০.২৬% পান।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এ দলের সামনে আরো দুর্দিন নেমে আসে। দলে দেখা দেয় ভাঙন। ছোট একটা অংশ দল থেকে বেরিয়ে যায়। দলের লাইব্রেরির বিশাল সংগ্রহ একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করে দেয়া হয় অর্থ সঙ্কটের কারণে। কিন্তু তারপরেও একটি ক্ষুদ্র দল হিসাবে, নানা অঙ্গ রাজ্যে শাখা বজায় রেখে তারা টিকে থাকতে সমর্থ হয়।

স্যান্ডার্স ম্যাটারস

এ পর্যন্ত এভাবেই চলে আসছিল। সবসময় এভাবেই চলবে বলে অনেকে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ গোলমাল বাঁধিয়ে দেন ভারমন্ট অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত ৭৮ বছর বয়স্ক স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি নিজেকে পরিচয় দেন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসাবে।

বার্নি স্যান্ডার্স

অনেক ইউরোপীয় সমাজতন্ত্রীর মত তিনি সমাজতন্ত্র প্রত্যয়টির আগে গণতন্ত্র প্রত্যয় ব্যবহার করেন এটা বোঝাতে যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন বা চীনের সমাজতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্রের ধারণা আসলে সমাজতন্ত্রের মৌল নীতিরই পরিপন্থী। বামপন্থী চিন্তাবিদ নোম চমস্কিও বিষয়টাকে এভাবেই দেখেন।

অনেকে বলে থাকেন, বার্নি স্যান্ডার্স গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী বলে নিজেকে উপস্থাপনের পরেও কেন সমাজতান্ত্রিক দলের সঙ্গে থাকলেন না। এখানেই স্যান্ডার্সের রাজনৈতিক কৌশল দেখে থাকেন অনেকে। তাদের মতে, বড় পরিসরে ভোটের রাজনীতির ক্ষেত্র তৈরি করতে তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।

কিন্তু শুরুর দিকে আশা জাগালেও স্যান্ডার্স এবারের মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে উঠে আসেন জো বাইডেন।

বাইডেনের সদর অন্দর

স্যান্ডার্সের বদলে যখন বাইডেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হলেন, তখনও দেশটির বামপন্থিরা ঠিক কোন অবস্থান নেবেন, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছিলো না। তবে পরিস্থিতি দ্রুতই বদলাতে শুরু করে। স্যান্ডার্সসহ বামপন্থি ডেমোক্র্যাটরা যখন সরাসরি বাইডেনের পক্ষে মুখ খোলেন।

এরপর নোম চমস্কিসহ বামপন্থি বুদ্ধিজীবীরা যখন ‘প্রথমে ট্রাম্প খেদাও’ কৌশল সামনে এনে বাইডেনের পক্ষে দাঁড়ালেন, তখন ভোটের আগে স্পষ্ট হয়ে যায়, বামপন্থিরা এবার থাকছেন বাইডেনের পেছনে।

নাথান জে. রবিনসন

বাইডেনকে বলা হয়ে থাকে ‘মধ্য-সমাজতন্ত্রী’। কিন্তু ঠিক কোন অর্থে এবং কেন এই প্রত্যয়টির ব্যবহার হয়, তা স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছাড়াও এর আগে মার্কিন প্রশাসনের বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে তার অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে বামপন্থিদের মধ্যে বিস্তর প্রশ্ন আছে।

নাথান জে. রবিনসন লিখেছেন, ‘বাইডেন বামপন্থি নন। তিনি একাধিক অনুষ্ঠানে এটি পরিষ্কার করেছেন। তিনি গর্বের সাথে সবচেয়ে রক্ষণশীল ডেমোক্র্যাটদের একজন হিসাবে স্ব-স্বীকৃত। তাঁর রাষ্ট্রপতি প্রচারে তিনি স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে তিনি সমাজতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করেছেন; সম্প্রতি, তিনি বারবার মেডিকেয়ার ফর অল এবং জরুরি গ্রীন নিউ ডিলের মতো সামাজিক গণতান্ত্রিক নীতিগুলি সমর্থন করতে অস্বীকার করেছেন। বিগত এক বছরে, বাইডেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির “স্যান্ডার্স উইং” নিয়ে খুব আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং আমি তার হতাশাজনক রেকর্ড এবং ব্যক্তিগত ত্রুটিগুলি নথিবদ্ধ করেছি। অথচ দুর্ভাগ্যক্রমে, এই মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরও চার বছরের একমাত্র বিকল্প হলেন বাইডেন।’

স্যান্ডার্সের চেয়েও বড় বামপন্থি?

বাইডেন তার রানিংমেট হিসেবে কমলা হ্যারিসকে বেছে নেয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে তিনি। এমনকি ট্রাম্প তাকে ‘স্যান্ডার্সের চেয়ে বড় বামপন্থি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রিপাবলিকানদের তরফে বলার চেষ্টা চলেছে যে, বাইডেনকে পুতুল হিসেবে রেখে মূল চালিকাশক্তি হবেন কমলাই। কারণ তার লক্ষ্য পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রপতি হওয়া।

কমলা হ্যারিস

প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর প্রথম ভাষণে তিনি বলেছেন, ‘এটাই শুরু, কিন্তু এটা শেষ নয়। গন্তব্য আরও দূরে।’ তার এই বক্তব্য নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। কিন্তু কমলা হ্যারিস কি প্রকৃতপক্ষেই বামপন্থিদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ রাজনীতি বিনির্মাণের কথা ভাবছেন? এ নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের মধ্যে দুটি মত রয়েছে।

কমলার পিতা একজন জামাইকান আফ্রিকান। নাম ডোনাল্ড হ্যারিস। কমলার মা ডা. শ্যামলা গোপালন জন্মসূত্রে ভারতীয়। ডোনাল্ড হ্যারিস ছিলেন একজন মার্কসবাদী অর্থনীতি শিক্ষক। সেই সুবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থিদের সঙ্গে কমলার সম্পর্ক অনেক পুরনো। তার আইনপেশা ও রাজনৈতিক জীবনেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা আলোচিত হয়।

নির্বাচনের আগে খোদ ডেমোক্র্যাট শিবিরেই আলোচনার বিষয় ছিলো, স্যান্ডার্সের মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর বামপন্থিরা বাইডেনের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজেদের পছন্দের একজনকে যুক্ত করে সমঝোতায় যেতে চাইছে কি না। কমলা হ্যারিস তাদের সেই প্রত্যাশিত প্রার্থী কি না, তা নিয়ে নানা মত থাকলেও লক্ষ্য করার বিষয়টি হলো, কমলাকে রানিংমেট করার পরেই বামপন্থিদের প্রকাশ্য সমর্থন আসতে থাকে বাইডেনের পক্ষে।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, মার্কিন রাজনৈতিক পটভূমিতে হ্যারিসের সাফল্য তার পিতৃতান্ত্রিক বংশের ওপরই নির্ভর করে। সেদেশের আফ্রো-আমেরিকান এবং বাম-উদারপন্থিদের সাথে ভালভাবে মেলে তার পিতৃবংশের পরিচয়। ফলে ‘স্যান্ডার্সের চেয়ে বড় বামপন্থি’ কি না তা নিশ্চিত না হলেও কমলাকে রাজনৈতিকভাবে বামপন্থি ডেমোক্র্যাটদের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

তবে এর বিপরীতে তাকে নিয়ে ভিন্ন মতও কম নেই। বাইডেনকে সাথে নিয়ে কমলা হ্যারিস কিছুদিন আগেও ভারতের সমালোচনা করেছেন কাশ্মির ও নাগরিকত্ব আইন ইস্যুতে। অথচ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে তার অবস্থানে মোটেই সন্তুষ্ট নন বামপন্থিরা।

বামপন্থি ভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত প্রগ্রেসিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির প্রতিষ্ঠাতা কুলিনস্কি তাদের একজন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের মানবাধিকার রেকর্ডের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে কমলা হ্যারিস দেখিয়ে দিয়েছেন যে তার কথিত নৈতিক উদ্বেগের আসলে কোনও ভিত্তি নেই। আদতে এমন কোনও উদ্বেগই তার নেই। ভোটের মাঠে অগ্রসর হতেই তিনি এ রাজনীতির খেলা খেলছেন।’

জেয়ার্ড বার্নস্টাইন ফ্যাক্টর

জেয়ার্ড বার্নস্টাইন

২০০৮ সালে মনোনয়নের ব্যর্থ হলেও জো বাইডেন পেয়েছিলেন তার অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী উপদেষ্টা জেয়ার বার্নস্টাইনকে। তিনি মূলত একজন শ্রম অর্থনীতিবিদ। জেয়ার্ড নিজে মনে করেন, তার কাজের মধ্যে বামপন্থিদের প্রভাব রয়েছে।

স্বভাবতই বাইডেনের সঙ্গে এবারও বার্নস্টাইন রয়েছেন। নির্বাচনের আগে মার্কিন রাজনীতিতে বাইডেনের সম্ভাব্য নীতি নিয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন বাইডেন মধ্যপন্থি। কিন্তু আমি জানি না, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশে তিনি যেভাবে শ্রম অর্থনীতিকে তার সমস্ত রাজনৈতিক কৌশলের শীর্ষে রেখেছেন এবং শ্রম আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছেন, তাতে তাকে মধ্যপন্থি বলা যায় কি না।’

ডেমোক্র্যাটদের ভেতরের সমীকরণ

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাট নেতাদের এক ককাসে কয়েকজন নেতা খোলাখুলিভাবেই যত বড় জয় পাওয়ার কথা ছিলো, তা না পাওয়ার জন্য দুষছেন বামপন্থিদের। বিশেষ করে তাদের প্রতিনিধিত্ব কমার বিষয়টি তাদের মূল মাথাব্যথা।

তবে বামপন্থি বিরোধী বলে পরিচিত ডেমোক্র্যাটদের এই অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেস।

আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেস

কর্তেসের মাত্র ৩০ বছর। । দীর্ঘদিনের পুরোনো এক ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যানকে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করা এই তরুণ রাজনীতিক আমেরিকায় সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা চান। রাখঢাক ছাড়াই ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দটি ব্যবহার করছেন। তাঁকে এ জন্য উপহাস করা হবে—এ কথা জেনেও। বার্নি স্যান্ডার্স বা এলিজাবেথ ওয়ারেনের মতো কর্তেসও ডেমোক্র্যাটদের ভেতরের বামপন্থি নেতাদের অন্যতম। এই নির্বাচনে তিনিও সব সময় ছিলেন বাইডেনের পাশে।

কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণার পরপরই প্রায় এক ঘণ্টার দীর্ঘ সাক্ষাত্কারে তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে পার্টির মধ্যে যে বিভাজনগুলি প্রাথমিকভাবে রয়েছে তা স্পষ্ট করে দেন। তিনি ডেমোক্র্যাটিক হাউসের কয়েকজন সদস্যের সাম্প্রতিক সমালোচনা খারিজ করে বলেন, ‘তাদের উচিত এই পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা।’

ডেমোক্র্যাটদের ভেতরের এই স্পষ্ট অবস্থানগত তারতম্য শেষাবধি কোথায় দাঁড়াবে তা এখনই বলা না গেলেও, বেশিরভাগ রাজনৈতিক ভাষ্যকারের মতে, দীর্ঘ সংকটময় কাল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বামপন্থিরা একটি ভিন্ন রাজনৈতিক কৌশলে তাদের আগামীর রাজনীতি গাঁথতে চলেছে।

এবং বিশ্বে প্রভাব

সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিতন্ত্রের বিপরীতে নতুন ধারার সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক কৌশল দেখা যাচ্ছে। ল্যাতিন অ্যামেরিকায় এর উত্থান-পতনের নানা প্রক্রিয়ার মধ্যে ইউরোপে সোশ্যাল ডেমোক্রেসির আদলে নতুন উপায়ে সমাজতান্ত্রিক মূলধারা থেকে নেয়া আর্থরাজনৈতিক প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও বামপন্থিরা সেদেশের পরিস্থিতি অনুসারে ভিন্ন কৌশল নিয়ে চলতে শুরু করেছে, যা তাদের আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

বামপন্থি রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের অনেকেই মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্বাচনে বামপন্থিদের অবস্থান ভুল না ঠিক ছিলো, তার ওপর বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রেই বামপন্থি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

কারণ, এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিকে মোকাবেলা করতে বামপন্থিদের ‘অপেক্ষাকৃত কম প্রতিক্রিয়াশীল’ শক্তির সঙ্গে গাটছড়া বাধার বিষয়টি কট্টর বামপন্থিদের মধ্যে সমালোচিত হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোতে এই ধারার সমালোচনাকারীরা মূলত নোম চমস্কির অবস্থানকে অপেক্ষাকৃত সময়োপযোগী মনে করে থাকেন। সেই চমস্কি তার নিজের দেশে বামপন্থিদের যে অন্তর্বর্তীকালীন কৌশল দেখিয়েছেন, তা সফল হলে, বিশ্বের অনেক দেশেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী ফলপ্রসূ ঐক্য গড়ে উঠতে পারে।

Berger Weather Coat