বাংলানিউজনিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ॥

বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা লঙ্ঘন করায় রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধীনস্থ অন্য বেসরকারি কলেজগুলোতে মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী, রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি।

গত ২ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উপ-সচিব স্বাক্ষরিত দু’টি চিঠি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কলেজে এসে পৌঁছে। একটি চিঠিতে ছাত্রভর্তি বন্ধ এবং অপরটিতে কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধীনস্থ অন্য বেসরকারি কলেজে মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উপ-সচিব বদরুন নাহার স্বাক্ষর করেছেন।

২০১৪ সাল থেকে কলেজটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অনুমোদন বহির্ভূত শিক্ষার্থী ভর্তি করা শুরু করে। একের পর এক এসব ঘটনা ঘটিয়ে চললেও প্রতিবারই ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের’ কথা ওঠায় প্রতিষ্ঠানটি পার পেয়ে যায়।

মেডিকেল কলেজটির একাডেমিক অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও ছাত্র ভর্তিসহ নানা অসঙ্গতি থাকায় ২০১৫ সালে অধিভুক্তকারী প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক দল প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করে। এ নিয়ে সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ফারুক চৌধুরী এমপি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যকে শাসিয়ে আসেন।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ তাদের আওতায় আসে। তাদের পরিদর্শনেও অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

বর্তমানে সাতটি ব্যাচে ২২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় কলেজটি বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন পায়নি। প্রতিষ্ঠানের এ নিবন্ধন না থাকায় তাদের এমবিবিএস পাস করা চারজন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ করতে না পেরে এক বছর বসেছিলেন।

এ অবস্থায় গত ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের মুখে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কলেজ খোলা রাখা এবং বিকল্প ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। 

এর আগে ২০১৯ সালের মার্চে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত হয়। এতে কলেজ পরিচালনার ক্ষেত্রে ঘাটতিগুলো পূরণ করতে বলা হয়েছিল। চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি পরিদর্শনের এসে তারা দেখেন সেগুলোর একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

কলেজটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীনের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে একপেশে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা উচ্চ আদালতে রিট করবেন।

Berger Weather Coat