।। কনটেন্ট এডিটর, সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক ।।

”সময় সব কিছু বদলে দেয়। সময় বড় নিষ্ঠুর। মিস ইউনিভার্স হয়ে যখন সুস্মিতা দিল্লি এলেন প্রথমবার বাড়িতে থাকতে পারলেন না। থাকলেন পাঁচতারা হোটেল তাজ প‍্যালেস হোটেলে। মিস ফেমিনার ইভেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তখন টাইমস অফ ইন্ডিয়া। প্রদীপ গুহ ওর খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। কেননা প্রদীপ গুহ ই ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া কনটেস্টের প্রধান হোতা। এরপর সুস্মিতা মুম্বাই চলে গেলেন। বলিউডে প্রবেশ করলেন। তাজ প‍্যালেসে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে ও বলেছিল একটা অনাথ আশ্রম গড়বেন। তিনি গরীব অনাথ মানুষের জন্য মাদার টেরিসার সঙ্গে কাজ করতে চান। সে সব আজ সুস্মিতা ভুলে গেছেন।”

এভাবেই মিস ইউনিভার্স হবার পর এক বাঙালি নারীর সেলিব্রেটি হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে ভীষণভাবে বদলে যাওয়া জীবনের কাহিনি অকপটে বলেছেন ভারতের জাদরেল সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষাল। তিনি রোববার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নিজের সাংবাদিক জীবনের আত্মকাহিনি ‘আমার হলফনামা’র অষ্টাদশ পর্বে লিখেছেন কৌতূহল জাগানিয়া এই লেখা। এতে তিনি তুলে এনেছেন টিটু থেকে আজকের সুস্মিতা সেন হয়ে ওঠার গল্পের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা কথা।

তিনি লিখেছেন, “সুস্মিতা মিস ইউনিভার্স হওয়ার পর প্রথম যে ঘটনা হয় সেটি হল ওর পুরনো বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ওর নিঃশব্দে ব্রেকআপ হয়ে গেল। ছেলটিকে আমি দেখতাম, গ্ৰেটার কৈলাশে থাকত।এরপর অনেকদিন আর যোগাযোগ রাখিনি। ভাবতাম ওর টেক অফ হয়ে গেছে আর আমার তো ফিল্ম বা বিনোদন পেশাগত অগ্ৰাধিকার নয়। একবার আনন্দবাজারের কোনও প্রয়োজনে সুস্মিতার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হয়, সুবীর সেন তখন কলকাতায়, ফোন করেছিলাম। সেটাই সুবীরবাবুর সঙ্গে আমার শেষ কথা। বললাম একবার সুস্মিতার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। জবাবে সুবীরবাবু বললেন আমি নিজেই আজকাল সরাসরি কথা বলতে পারিনা। কতদিন দেখা হয়নি। বড় ব‍্যস্ত জীবন। আমি ওর সেক্রেটারির নম্বর দিচ্ছি। ওর সঙ্গে কথা বলে নিন। ফোন নম্বরটা নিয়েছিলাম কিন্তু ফোনটা আর করিনি।”

সপরিবার সুস্মিতা সেন। জয়ন্ত ঘোষালের লেখায় ব্যবহৃত সেই পুরনো ছবি।

জয়ন্ত ঘোষাল বলে গেছেন তার কথা। লিখেছেন, “চোখের সামনে একটা ছোট্ট মধ‍্যবিত্ত পরিবার টার পরিবর্তন দেখলাম সুস্মিতার মিস ইউনিভার্স হওয়ার পর। শুনেছিলাম শুভ্রাদেবী দিল্লিতে থাকেন। বুটিক শপ তুলে দিয়েছেন। মেয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ ভাল। বাবা আলাদা থাকেন কলকাতায়। আশা করি ওরা চারজন হয়তো পুত্রবধূ কে নিয়ে পাঁচজন আজো ভালো আছেন |আজ এত বছর পর জানি না সুবীরবাবু কোথায় আছেন ? কেমন আছেন ? শুভ্রাদেবীই বা কোথায় ? ওর ভাইটাই বা কী করছে ? এসব তো জানা যায় না। এখন জানা যায় সুস্মিতা বাড়িতে বিষাক্ত সাপ পুষেছে। একটি মেয়েকে অ্যাডপ্ট করেছেন। তার সঙ্গেই থাকেন। বিয়ে থা করেননি।”

সুস্মিতার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের গল্প বলতে গিয়ে জয়ন্ত লিখেছেন, “মনে পড়ে যেদিন প্রথম ওর সঙ্গে দেখা করতে যাই, তখন সকাল নটা। ছোট্ট ফ্ল্যাট। ড্রইংরুমের সামনেই ওর ছোট ঘরের দরজা বন্ধ। বাবা ডাকলেন টিটু ওঠ। জয়ন্তবাবু এসে গেছেন। দরজা খুলে ও বেরোলো। দুহাতে মুখ ঢেকে। সামনেই রান্নাঘর। তার সামনে একটা বেসিন। সেখানে মুখ ধুয়ে। চোখ ধুয়ে। ঘরে ঢুকে একটু চেঞ্জ করে। হালকা মেকআপ করে আমার সামনে এসে বসল। সেদিনের সেই সহজ সরল কিশোরীটি কোথায় গেলো?”

Berger Weather Coat