জিন-শিশু

নদীবুকে ঝিকিমিকি তারা খসে পড়ে
শীতলা বাতাসে হায় যেয়ো না নাইয়রি
হেমন্ত যদিবা ডাকে গজারের মত
খোঁপার সহিস রূপে মরে যাবো নাকি?

দুয়েকটা চন্দ্রের তিল ডাকো পক্ষী বলে
লুকাও স্তনের ভাঁজে জিন শিশু হলে।

চন্দ্রালোকিত রাতে

রাখাল নামেই ডাকো পশুদলে থাকি
এদিকে হেমন্ত আসে তোলপাড় বাতাসে;
ঘরহারা ছেলে, থাকি বনে ও বাদাড়ে
মাতা, ঘুমিয়েছো! জাগো, পুত্র আছে পাশে।

কী যে চাঁদ ওঠে আহা চমকায় আসমানে
রাতভর হ্যান্ডলুম টানি অবিরাম;
সংখ্যায় নিরানব্বই আল্লা নাম লিখি
জরির প্রতাপে সুই সুতার সোহাগে।

পূর্ণিমার নিচে ভাসে যখন জগৎ
হাওয়া-নদী রেখে পাশে দাঁড়াই নামাজে
আইড় মাছেরা যেন মেতেছে জিকিরে
মা, অদূরে—তুলে ধরে সন্তানের দেহ।

চাঁদ ডুবে যায় পরি শাপলার সুবাসে
জিনের ভয়েতে কাঁপি; ভীতু যদিও-বা
রাখাল নামেই ডাকো, বলো কার বুকে
আমি মাথা রেখে আজ সুনিশ্চিন্তে মরি?

আয়না

খোঁপার ফুল কেন হয়েছো হেমন্তের
ঘন সন্ধ্যা নামে নদীর তীরেতে যেন
ডাকে শেয়াল ক্ষিরের মত জমে কুয়াশা
বাতাসে হু হু সিংহাসন ওড়ে শীতের;

কেউ থাকে না নীরব তিলে পাহারাদার
অযুত খেতে বীজের পেটে ঘুমিয়ে যাই
তারার সই বলে ডেকেছি কারে কাতর
সৌর পিপাসা থেকে জন্মে কতক ভোর;

যতটা ঘুম ষাঁড়ের কূজে হয় আড়াল
তারো অধিক ভাষায় জ্বলে জরির তারা
নদী নামাজে রত, মাছও। ধানের শীষ
নীরবে জপে জিকির—ক্রমে কেঁদেছে পাড়া।

রাত মধ্য হলে তুমিও ডেকো আল্লা
খুর-চিহ্ন ধরে কাফেলা কোথায় যাবে?
দিগন্তের পরে বাতাস, তারও পরে
বাদশা হলো ফকির, মাগে ভিক্ষা সুরে।

তারার পরে চাঁদ, চাঁদের পরে গ্রহাণু
ভূখণ্ডের সুবাসে ফেটে যাও তীব্র
আমি শস্যকণা কখনো তরমুজের
কালো কাজল বলে সজোরে ডাকোতো দেখি।

চোখের মণি যদিবা খুলে পড়ে নদীতে
আয়না তবে আমি, আকড়ে ধরো বুকেতে।
শাপলা ফুলে ঘুমায় পরি, তিনটা জিন
তাহার চুলে মাখাও তেল, কাটো গো বিলি
বাছো উঁকুন, ডালিম কোনো যত্নে চষো
যেখানে তাঁত সুতোতে বোনা অতর্কিতে।

আসমান-ও আয়না বলো আবার তুমি
রক্ত দানা? সূর্যাস্তে জেগেছে ভূমি!

প্রচ্ছদ রাজিব রায়

Berger Weather Coat