কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, রংপুর ॥

রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন দিন দুয়েক আগে ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। পথে দেখা হয় শহিদুন্নবী জুয়েলের সঙ্গে। জুয়েল তাকে সেদিন সুরা বাকারার তর্জমা শুনিয়েছিলেন। সেই ছেলেটিকেই কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে মারার খবরটি তাই কিছুতেই মানতে পারছেন না মিলন।

এই ব্যবসায়ী নেতার দাবি, এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি জানান, জুয়েল আর তিনি রোজই একসঙ্গে ফজরের নামাজ পড়ে হাঁটতেন।

জুয়েলের পরিচিত কেউই এই হত্যার সঙ্গে জড়িয়ে দেয়া অভিযোগ বিশ্বাস করছেন না। তার বাড়ি রংপুর মহানগরীর একটি মহল্লায়। নিরাপত্তার খাতিরে তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হলো না। তবে নিজ শহরে তার পরিবারের পরিচিতি আছে বেশ।

তার স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে জুয়েল রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে গ্রন্থাগারিক হিসেবে যোগ দেন। বছরখানেক আগে তিনি চাকরি ছেড়ে ব্যবসা বাণিজ্যে মন দেন।

তার এক বন্ধুর দাবি, স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের কাছে ‘খ্যাপাটে’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন জুয়েল। বিশেষ করে হুটহাট করে সব কাজ করতেন তিনি। তবে দিনে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াতও করতেন।

নিহত জুয়েলের বড় বোন জানান, ক্যান্ট পাবলিকের চাকরি নিয়ে একটা সমস্যা হয় বছরখানেক আগে। সেই থেকে কিছুটা মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন তিনি। বুধবার সারারাত তিনি ঘুমান নি। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ফোন দিলে জুয়েল বলেন, “আপা তুই চিন্তা করিস না। আমি একটা দুর্নীতি ধরেছি। ডিসির মোড়ে আছি। ডিসিকে বিষয়টি জানাবো। আমার সাথে র্যা বের ম্যাজিষ্ট্রেট আছে। তুই চিন্তা করিস না। তারা আমকে প্রেটেকশন দেবে। আমাদের পরিবারকে প্রটেকশন দিবে।”

তার বোন বলেন, “তখন আমি ওকে বলি তোর ছেলেটা অসুস্থ্য। তুই তাড়াতাড়ি বাড়ি আয়। ওকে ওষুধ খাওয়াবি। তখন সে বলে আমার জন্য চিন্তা করিস না আমি আসতেছি। এই বলে ফোন কেটে দেয়। পরে বহুবার ফোন দিয়েছি কিন্তু ধরে নি।”

বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর থেকে সুমন নামের এক বন্ধুর মোটরসাইকেলে চেপে বুড়িমারি যান জুয়েল। সেখানেই কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে তাকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তার এসএসসি পরীক্ষার্থী কন্যা ও সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া পুত্র আর স্ত্রীকে নিয়ে ছিলো জুয়েলের সংসার।

Berger Weather Coat