রাবি কার্টুন

একদা এক চালুনির ছিদ্র অন্বেষণ করিয়া বাহির হইলো যে তাহার ছিদ্রের সংখ্যা গণনা করিয়া শেষ হইবার নহে। এমতাবস্থায়, গণনাকারীগণের নিকট হইতে এই বার্তা পাইয়া একদঙ্গল ঢোলক তাহা রাজ্যময় কহিয়া বেড়াইতে থাকিলো। রাজ্য হইতে রাজ্যে বিদ্যুতের গতিতে সেই সংবাদ ছড়াইয়া পড়িলো। চারিপার্শ্বে ঢি ঢি পড়িয়া গেলো। কতক জনা যদ্যপি কহিতে চাহিলো যে, ইহা তেমন কোনো বিষয় নহে। ছিদ্র চালুনির একারই বিদ্যমান নহে, উহা তো অন্যদিগেরও কমবেশি রহিয়াছে!

বেচারা চালুনি অতীব মনোকষ্টে পতিত হইলেন। তিনি বুঝিতে পারিলেন না যে, কীসের নিমিত্যে ইত্যকার খবর প্রকাশিত হইয়া পড়িতেছে। ভাবিয়া ভাবিয়া একদা প্রত্যুষে তিনি ঢোলকদিগকে ডাকিলেন। বিনয়াবনত কণ্ঠে কহিলেন, “এতোকাল আপনাদিগের মাঝে কাহারো কাহারো আহ্বানে সাড়া না দিয়া মহাপাতক হইয়াছি। এক্ষণে আমি শপথ করিতেছি যে, এই কর্ম হইতে আমি বিরত থাকিবো।” ঢোলকদিগের মুখমণ্ডলে দিগ্বিজয়ীর হাসি জ্বলজ্বল করিতে লাগিলো।

অতঃপর চালুনি করজোরে কহিলেন, “আপনাদিগের নিকট আমার মিনতি, ঝাঁঝরেরও যে ছিদ্র রহিয়াছে, তাহা লইয়াও আপনারা বাজাইতে থাকুন।” তাহারা চালুনির পর এইবার ঝাঁঝরের ছিদ্রও রাজ্যময় করিতে পারিবে, এই কথা ভাবিয়া ঢোলকদিগের আনন্দের আর সীমা রহিলো না।

কোনো এক অদৃশ্য পটে বসিয়া ভবিষ্যতের চালুনি আর ঝাঁঝর নিজ নিজ গোঁফে তা দিতে থাকিলেন। অপরদিকে কতিপয় মানুষ ভাবিতে থাকিলেন, কী উপায়ে এই ছিদ্রময়তা হইতে রেহাই মিলিতে পারে।


*এই বিভাগে প্রকাশিত লেখা, ছবি, ভিডিয়োসহ সব ধরনের বিষয়বস্তু নিছক কাল্পনিক। এসবের সঙ্গে বাস্তবে কোনো মানুষ, গোষ্ঠী, দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান কিংবা ঘটনার মিল নেই। এমনকি কারো অনুভূতিতে আঘাত কিংবা কাউকে নেতিবাচক উদ্দেশ্যে মনোকষ্ট দেয়ারও কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই।

Berger Weather Coat