রাবি ভিসি প্রোভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ

বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহানসহ প্রশাসনের কয়েক শীর্ষকর্তার দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ইউজিসির তদন্ত দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ছেপেছে ঢাকার দৈনিক দেশ রূপান্তর।

প্রতিবেদন অনুসারে, উপাচার্য ছাড়াও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী জাকারিয়ার দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। প্রশাসনের দুই শীর্ষকর্তার সম্পদের হিসাব অনুসন্ধানের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এদের বাইরে দুর্নীতিতে সহায়তার অভিযোগে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সহযোগী অধ্যাপক গাজী তৌহিদুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক শিবলী ইসলাম ও সাখাওয়াত হোসেন টুটুলের সম্পদ অনুসন্ধানের জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্তে অসহযোগিতা করায় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এমএ বারীর বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছে কমিটি।

গেলো বছর উপাচার্য ও একজন উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে রাবির ৬২ শিক্ষক ও দুজন চাকরিপ্রার্থী যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং দুদকে লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী রাবি সিন্ডিকেট সদস্য ড. দিল আফরোজ বেগমকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি  গঠন করে ইউজিসি। সে কমিটি সম্প্রতি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়।

প্রতিবেদনে প্রমাণিত অভিযোগ উল্লেখ করে বলা হয়, উপাচার্য শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করেছেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিকে (আচার্য) অসত্য তথ্য দিয়েছেন। সেই প্রমাণও পাওয়া গেছে। উপাচার্য শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা শিথিল করে নিজের মেয়ে এবং জামাতাকে নিয়োগ দিয়েছেন। উপাচার্যের এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাশীল পদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তদন্ত কমিটি নৈতিকতাবিবর্জিত এ ধরনের কর্মকাণ্ড জরুরিভিত্তিতে বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বলেছে।

কমিটি ৩৪ জন অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রমাণও পেয়েছে। অভিযুক্তরা তাদের থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।এ অবস্থায় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে পরিচালিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও নতুন নীতিমালা প্রবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রার্থীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের সত্যতা পাওয়া গেছে।

দীর্ঘ এই প্রতিবেদনে উপাচার্যের নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের সম্পদ, আয়ের উৎস, ব্যাংক হিসাব এবং আয়-ব্যয়ের বিবরণী সরকারের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে অনুসন্ধানের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

Berger Weather Coat