।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

রাজশাহীতে এক ব্যক্তি রেললাইনে মাথা দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে নগরের বিলশিমলা বন্ধগেট এলাকায় তিনি আত্মহত্যা করেন।

এই ব্যক্তির নাম এমরুল হাসান (৪০)। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর এলাকায়। তার বাবার নাম ফিটু মিয়া। এমরুলের পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সুইসাইড নোটে এমরুল লিখেছেন, ‘জালাল, কালাম ও তাদের ছেলে রানা অনেকে আমার হাত ও পা ভেঙেছে। এই কষ্টে আমি জ্বলে পুড়ে যাচ্ছিলাম। আমার হাত ও পা ভাঙার কারণে বাড়ির সামনের রাস্তা দুইবার বন্ধ করে দেয়।’ এই চিরকুটে তিনি উল্লেখ করেছেন কে তার কাছে কত টাকা পাবে।

মৃত্যুর পর কোন মোবাইল নম্বরে ফোন করে খবর দেয়া যাবে সে কথাও চিরকুটে লেখা আছে। তার মরদেহ কোন কবরস্থানে দাফন করা হবে সেটিও লেখা হয়েছে। দুটি চিরকুটের একটিতে এমরুল লিখেছেন, ‘আমার জীবনে আমার আপনজন আমার, বেটি (মেয়ে) ও স্ত্রী। তিনজন আমার প্রিয়। আমাকে আর ভাল লাগছে না। আমার লেখা কাগজ দুইটা আমার স্ত্রীকে দিবেন। কাগজের ফটোকপি পুলিশকে দিবেন। কাগজের মেন কপি দুইটা আমার স্ত্রীকে দিবেন।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এমরুল ক্র্যাচে ভর দিয়ে রেললাইনের পাশ ধরে হাঁটছিলেন। ওই সময় রাজশাহী থেকে রহনপুরগামী একটি কমিউটার ট্রেন আসে। ট্রেনটি খুব কাছে চলে এলেই এমরুল রেললাইনে মাথা পেতে দেন। এতে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। রেললাইনের পাশে পড়ে থাকে এমরুলের দেহ আর তার ক্র্যাচ।

নিহত এমরুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, গত সোমবার চিকিৎসার জন্য তারা রাজশাহী এসেছেন। নগরের তেরখাদিয়া এলাকায় তারা তার বোনের বাড়িতে ওঠেন। সকালে এমরুল তাকে জানান তিনি চা পান করতে বের হচ্ছেন। এরপর তিনি রেললাইনে মাথা পেতে আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ চিরকুটে থাকা তার বোনের নম্বরে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করে।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান জানান, রেলওয়ে থানা পুলিশ নিহত এমরুলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে বলেও জানান ওসি।

Berger Weather Coat