এমনিতেই মহাবিশ্ব নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। কবে কীভাবে এর উৎপত্তি ঘটেছিল, তার আগে কী ছিল, গন্তব্যই বা কোথায়- এ নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন আর সমীকরণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার আড়ালে হাজির হয় আমাদের সামনে। সেই রহস্যের পর্দাটাকেই যেন আরও নতুন প্রশ্নের নিরিখে মাপতে চলেছেন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী স্যার রজার পেনরোজ। বলেছেন, আমাদের এই মহাবিশ্বের আগে আরও একটি মহাবিশ্ব ছিল যা কৃষ্ণবিবর থেকে উৎপন্ন। বিদেশি পত্রিকা অবলম্বনে লিখেছেন শোয়াইব মোহাম্মদ



বিগ ব্যাঙের আগেও মহাবিশ্ব ছিল এবং এর উপস্থিতি টের পাওয়া যায় কৃষ্ণবিবর এর মাঝে। অবান্তর কথা মনে হচ্ছে? যদি তা মনে হয়ে থাকে তাহলে আগেভাগেই জেনে রাখুন, এ কোনো কল্পনার কথা নয়। একজন নোবেল বিজয়ী পদার্থবিদ হঠাৎই নতুন এই তত্ত্ব হাজির করে চমকে দিয়েছেন পৃথিবীকে। তিনি স্যার রজার পেনরোজ।

সম্প্রতি নোবেল পুরস্কার বিজয়ের পরে স্যার রজার পেনরোজ এই অভিযোগ করেন যে আইনস্টাইন এর সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের মাঝে ভুল আছে এবং এর প্রমাণ কৃষ্ণবিবর এর মাঝে আছে। স্যার রজার অভিমত পোষণ করেন যে আকাশে তাড়িৎ-চৌম্বক বিকিরণের অনাবিষ্কৃত চিহ্ন আছে যা ‘হকিং পয়েন্ট‘ নামে পরিচিত এবং এটি পূর্বের মহাবিশ্বের অংশবিশেষ।

স্যার রজার পেনরোজ

এটি চক্রিয় মহাবিশ্বের অংশ এবং এই ধারণা পোষণ করা হয় যে এটি হল শক্তির চূড়ান্ত বিকিরণের অংশ যা ‘হকিং-এর বিকিরণ‘ নামে পরিচিত। এই বিকিরণ পূর্বের মহাবিশ্বের কৃষ্ণগহ্বর এর দ্বারা রুপান্তরিত। কৃষ্ণবিবরগুলো হলো মহাশূন্যের একটি অঞ্চল যেখানে পদার্থ একা একাই ধ্বংস হয় এবং এখানে মহাকর্ষীয় বল এত বেশি কাজ করে যে আলোও যেতে পারে না ।

রিনহার্ড গেঞ্জেল এবং আন্দ্রে গেজ স্যার রজার এর সাথে নোবেল পুরস্কার ভাগাভাগি করেছেন। তারা মনে করেন এমন একটি ঘটনা ছায়াপথের কেন্দ্রের মাঝখানে ঘুরছে। তাদের মতে, কৃষ্ণবিবরের সম্পূর্ণ বাষ্পীভবনের সম্ভাবনা আছে এবং এটা আমাদের বর্তমান মহাবিশ্বের চেয়ে বড় হবে।

স্যার রজার টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে বলেন, হকিং এর বিকিরণ তত্ত্বের উপস্থিতি পাওয়া যায় এবং বিগ ব্যাঙ কেবল মাত্র যাত্রা শুরু করেছিল । তিনি আরো বলেন, বিগ ব্যাঙ এর উপস্থিতি এর পূর্বেও ছিল। এবং যা ছিল তা আমরা ভবিষ্যতে দেখতে পাব।

তিনি আরো বলেন, আমাদের মহাবিশ্বে যা আছে তা কেবল প্রসারিত হচ্ছে এবং সাথে সাথে ক্ষয়ও হচ্ছে। তাছাড়া আমার তত্ত্বের দ্বারা এটা প্রমাণিত হয় যে, দূরবর্তী ভবিষ্যতে বিগ ব্যাঙ অন্য কোনো ক্রান্তিকালে রূপান্তরিত হবে। তাই বিগ ব্যাঙ এমন কিছু দিয়ে শুরু করেছিল যা দূরবর্তী ভবিষ্যতে দেখতে পাওয়া যায় এবং বাষ্পীভবনকৃত কৃষ্ণবিবরের সাথে এর মিল আছে। এটি আকাশের কিছু চিহ্ন উৎপাদন করে যাকে আমি হকিং এর চিহ্ন বলে মনে করি।

অনেকেই এই তত্ত্বের সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, আদৌ কৃষ্ণবিবর থেকে সৃষ্ট বিকিরণের অস্তিত্ব আছে কি না। উপরন্তু, অসীম মহাবিশ্বের উপস্থিতি যদি ক্ষুদ্র মহাবিশ্বে পরিণত হয়, তাহলে প্রত্যেক বস্তু কণা তাদের নিজস্ব ভর হারাবে এবং মহাবিশ্বের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এর গতি কমতে থাকবে। আদর্শ মহাবিশ্বের তত্ত্বানুসারে বিগ ব্যাঙ এর পরে পৃথিবীর খানিকটা প্রসারণ ঘটে। মহাবিশ্বের প্রসারণের ফলে এর গঠনে কিছুটা পরিবর্তন সূচিত হয়।

স্যার রজার প্রতিউত্তরে বলেন, কৃষ্ণবিবরসমূহ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় কিন্তু তারা কেবল গাণিতিক যুক্তিতেই স্থান পায়। কৃষ্ণবিবরকে গ্রহণ করতে অনেক সময় লেগেছে এবং লোকজন এই ব্যাপারে অনেক সন্দিহান ছিলেন। বিবিসির প্রতিবেদনে অনুসারে স্যার রজার বলেন, কৃষ্ণবিবর এর গুরুত্ব আংশিকভাবে গৃহীত হয়েছে ।

Berger Weather Coat

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.