কন্যার প্রতি

নক্ষত্রের চামচ মুখে জন্মাও নি কন্যা আমার
এমনকি পিতলের চামচ মুখেও না!
বাজারের অতসব দামি জামার বদলে
দিয়েছি তোমাকে পাতার পোশাক!

আহা কন্যা আমার!
লিচুফুলের মধুটুকু ওর মুখে তুলে দাও এবার।

যখন তুমি খুলেছো চোখ পৃথিবীর মায়ায়
বাণিজ্যের বাতাস পাক খেতে খেতে
ছুঁয়েছে শহরের উঁচু মিনার—
আর অক্ষমতার দড়ি ঝুলিয়ে গলার ভেতর
মরাঘাসে দাঁড়িয়ে রয়েছি অপার!

আহা কন্যা আমার!
লিচুফুলের মধুটুকু ওর মুখে তুলে দাও এবার।

চাঁদের কুসুমিত পথে হেঁটে যাও তুমি—
বেড়ে ওঠো মাটি-ঘাস-তৃণের ভেতর
ঝরাফুল কুড়িয়ে বানাও গহনা তোমার
ঝলমলে ঐশ্বর্যগুলো চোখে মেখো না।

আহা কন্যা আমার! জেনে রেখো—
তোমার পিতা ছিল শুধু অক্ষরের দাস।

মাথা

মাথা ঘুরতে ঘুরতে মানুষ হয়ে যায়!

পাষাণ জলের ওপর ভাসমান হাঁড়ি—
ভেতরে কাটা মাথা— ধড়হীন, রক্তহীন
আবছায়া অন্ধকারে ঝোপঝাড় ঠেলে—
হাঁড়ি ঘুরতে ঘুরতে মানুষ হয়ে যায়!

ছোপ ছোপ কোনো রক্তের দাগ নেই
পাষাণ জলের ওপর ভাসমান—
কোথাও কোনো ধড় নেই; শুধু মাথা
ঘূর্ণায়মান জলে—ঘুরছে…

মাথা ঘুরছে শুধু মাথাই ঘুরছে…

ভূতগ্রহণ

ওই তো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে
যারা ড্রাম বাজাতে বাজাতে আসছে
তাদের পেছনেই দেখা গেলো তাকে—
কী রকম চোরাগুপ্তা চুলের বাহারে…

আলিশান ঘোরলাগা মায়াসন্ধ্যায়
পাহাড়ের গুহামুখেও দেখা গেলো তাকে
কী রকম মায়া মায়া চক্ষুচরক…
মনে হয় হলদে দাঁতের জাদুমন্ত্রে—
অভিজ্ঞ বংশীবাদক।

ওই তো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে
যারা ড্রাম বাজাতে বাজাতে আসছে
নাহ! তাদের পেছনে আজ দেখা গেলো না তাকে…

বায়না সূত্রে

বায়না সূত্রে জমির মালিক তুমি হতে পারো
বুনতে পারো বীজ—ফলাতে পারো ফসল
গুনিন দ্বারা বন্দক করতে পারো সীমানা প্রাচীর।
হয়তো তৈরি করতে পারো সুউচ্চ আলিশান বাড়ি
ছিমছাম কারুকাজে থাকতে পারো আরাম আয়েশে।
বাড়ির চারপাশে লাগাতে পারো বিলাসী গাছ—
ফুলের সৌরভ নিয়ে জোছনা নামাতে পারো ঘরের ভেতর।
যেহেতু বায়না সূত্রে জমির মালিক তুমি—
তাই যা কিছু ইচ্ছে করতে পারো…
মালিকানায় নিতে পারো সুদর্শন হরিণ
আপেল কেটে টুকরো করে সাজাতে পারো নাস্তার টেবিল
প্রসাধনের ছোঁয়ায় ত্বক করে তুলতে পারো সজীব।

ভেবে দেখো বায়নার বিপরীতে তুমি
ধরে রাখতে পারো না নিজের শরীর…

হাসপাতালে শাদাদিদি

ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়ায় শাদাদিদি
বেডে বেডে সৌরভ ছড়ায়—
লিখে দেয় বকুল ফুলের ঠিকানা।

আমিও নিকটে যাই—দিদির নিকটে
দেখি ঘাম জমে আছে শ্যামলা ঠোঁটে!

অসুখের কথা তাকে জানাই ইশারায়
হাসপাতালে দিদি দেখলেই—
অসুখ বেড়ে যায়…

পারিবারিক

আমার মামার খুব ঘোড়া পোষার শখ ছিল
তাই ঘোড়া দেখলেই এগিয়ে যেতেন…

আর নানার ছিল মাছের—
এক বিরাট চিতলের কানে পরিয়ে ছিলেন দুল।

আর নানী আমার চুলে বিলি কেটে শোনাতেন—
পেঁপে গাছে বসা এক শাদা পরির গল্প।

আর খালারা ছিলেন পাঁচ বোন
এখন পাঁচ জায়গায় থাকেন।

একথা সত্য যে, আমার মা খুব ভালো রান্না করেন!

মধুগ্রাম

পায়ে পায়ে মধু লেগে থাকে
রূপপুরের ঘাটে। এ গ্রামে রমণীরা
বাঁশফুল খোঁপায় গোঁজে আর
মাটি দিয়ে চুল ধুয়ে রাখে!
সেই এক প্রাচীন মহুয়াবাগানে
অন্নদাসুন্দরী একা একা হাঁটে।

প্রাসাদে পাহারা নেই। প্রজা সব
রাজা হয়ে বেচাকেনা করে।
দূর ওই মাঠে—আলিফ লাইলার
টি-শার্ট পরে কাকতাড়ুয়া হাসে।

এ গ্রামে মধু, ঠোঁটে নয়—
পায়ে লেগে থাকে!

Berger Weather Coat