বিক্রম দোরাইস্বামী

।। বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী ।।

নলিনী রঞ্জন ঘোষ যখন ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়ায় আশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখন কি ভাবতে পেরেছিলেন, একশ বছর পর তার একজন উত্তরসূরি জীবনে প্রথমবারের মতো সেই আশ্রমে পা রাখবেন? তা যদি তার কল্পনায় এসেও থাকে, তারপরেও কি তিনি ভেবেছিলেন, একদিন তার কোনো এক উত্তরসূরিকে এই আশ্রম থেকে তার জন্মস্থান চট্টগ্রামে যেত ভিসা লাগবে?

নলিনী রঞ্জন ঘোষ কতোটা ভেবেছিলেন সে জবাব আজ আর পাবার উপায় নেই। তবে তার উত্তরসূরি যে নিজের পুরনো সম্পর্কসুতো ভোলেননি, তা সোশ্যাল মিডিয়া দিব্যি বলে দিচ্ছে। ভিনদেশি হয়ে গেছেন বটে, তাই পাসপোর্ট-ভিসার ব্যাপারও আসছে, কিন্তু তারপরেও সংগীতা দোরাইস্বামী বাংলাদেশে আসার আগে ত্রিপুরায় তার প্রপিতামহ প্রতিষ্ঠিত আশ্রমে প্রথমবারের মতো পা রাখলেন। আর সেই ছবিসমেত দিব্যি টুইট করলেন তার ‘লাইফ পার্টনার’ বিক্রম দোরাইস্বামী!

হ্যাঁ, বাংলাদেশে ভারতের নয়া রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী ও তার স্ত্রী সংগীতা দোরাইস্বামীর কথাই বলা হচ্ছে এখানে। এর আগে ভারতের রাষ্ট্রদূতদের তাদের অ্যাসাইনমেন্টে যোগ দিতে আকাশপথেই ঢাকা আসার চিত্র দেখা গেছে। কিন্তু বিক্রম দোরাইস্বামী ব্যতিক্রম। স্ত্রী সংগীতাকে নিয়ে দিল্লি থেকে সড়কপথে ত্রিপুরা হয়ে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া আখাউড়া ইন্টারন্যাশনাল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছান তিনি।

তা, তিনি যেদিক দিয়ে খুশি আসতেই পারেন! কারণ, করোনা মহামারির কারণে তো আন্তর্জাতিক বিমান বন্ধ। তাই এ নিয়ে আলোচনার তেমন কিছু হয়তো থাকতো না, যদি তার স্ত্রী সংগীতা না হতেন! ২০১৮ সালে যখন বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে বিক্রম এসেছিলেন, তখন তিনি দিল্লির সাউথ ব্লকের বাংলাদেশ-মিয়ানমার ডেস্কের যুগ্ম সচিব। সেবারই সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপে তিনি জানিয়েছিলেন, তার স্ত্রীর পূর্বসূরিদের আদিনিবাস বাংলাদেশেরই চট্টগ্রামে। একই বছর বাংলাদেশের কয়েক সংবাদকর্মীর দিল্লি সফরের সাউথ ব্লকে তাদের স্বাগত জানানোর সময় তিনি একই তথ্য জানিয়ে বলেছিলেন, তার স্ত্রীর পূর্বসূরিদের কারণেই বাংলাদেশের সঙ্গে একটা ভিন্ন রকম সম্পর্কসুতো তার পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

ঢাকায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিয়ে আসার সময়ও দোরাইস্বামী পরিবার সেই পুরনো সম্পর্কসুতোর পথই হেঁটে এলেন। বেলুনিয়ার স্বামী শ্রীমৎ শিবানন্দ গিরী আশ্রম পরিদর্শনের ছবি দিয়ে বিক্রম টুইট করেছেন। শিরোনাম দিয়েছেন- বেলুনিয়ার সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক। সেখানে লিখেছেন, “চট্টগ্রামের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নলিনী রঞ্জন ঘোষ ১৯২০ সালে আশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ১০০ বছর পর সেই আশ্রমে প্রথমবারের মতো পা রাখলেন তার প্রপৌত্রি, যিনি আমার অর্ধাঙ্গিনীও বটে।” অর্থ্যাৎ, শতবর্ষের পুরনো সেই সম্পর্কসুতোটাকে আবারও টেনেটুনে দেখালেন তিনি।

ভারতের সাম্প্রতিককালের কূটনীতিকদের মধ্যে বিক্রম দোরাইস্বামীকে ভিন্ন উচ্চতায় রাখা হয়। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম তাকে ‘উলফ ডিপ্লোম্যাট’ও (আগ্রাসী কূটনীতিক) বলে থাকেন। নানা কারণে যখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সম্ভাব্য নিম্নমুখিনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর হচ্ছে, তখন এই দুঁদে কূটনীতিক দুদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কতোটা নতুন আলোকপাত করতে পারবেন, রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার পর সেটাই হবে তার প্রধান অ্যাসাইনমেন্ট।

Berger Weather Coat