মহিমার বাগান

১.
সপ্রতিভ দাঁড়াতে চাই।
চুপচাপ। গহন নীরবতায়।

মালতি ও মায়াবতী পোহাচ্ছে অকৃপণ রোদ।
আমাদের হাত স্পর্শ করছে না হাতের সুবাস।

বসন্তের চঞ্চলতার মতো তোমার বাগান।
ফুলেরাও চায় সবুজ কথাদের।
নৈঃশব্দ্যে নয়নতারা। না-দেখার কালে।

নিঃশব্দেও ভালোবাসা হয়।
শরীর পেতে চায় শরীর স্বচ্ছ নীরবতায়।
নীরবতার মধ্যে চলো ছড়িয়ে দেই মৌন সংকেত।
শব্দ ও গতির মাঝে যতিচিহ্ন।
নিঃশব্দের ভিতরে আসো শরীরে সুবাস মিশাই।

প্রেমে ও চঞ্চলে। ঝুমুরবিদ্যায়।

২.
জল ও ভ্রমরের কথা থাক।
বরং রূপ ও নীলার কথা বলি।
ফুলেদের কথা। তোমার বাগানে
যারা অকৃত্রিম। সুষ্পষ্ট ও সুন্দর।

মানুষের ভালোবাসা সংশয়প্রবণ!
সহজে আনন্দ মাখে না।
কেবল খুঁটিয়ে দেখে লোভ ও বাসনা।
অবিশ্বাসের দানা!

আমাদের দূরন্তপনার কোনো শেষ নাই!
আমরা অযথাই পোকামাকড়ের মতো
আগুনে লাফ দিয়ে মরে যাই।
ভালোবাসা ছাড়া।

নীলা ও আনন্দ, মায়া ও মালতি
আমাদের দেখে বাগানসমেত কেঁদে ওঠে।

চলো, আমরা জীবনের সৌন্দর্যের কথা বলি
সন্ধ্যার মায়া আর জল ভ্রমর ও রূপের কথা বলি।
ভ্রমণে বাগানের গল্প নিয়ে যাব আমরা।

৩.
আমি নিজেই শক্তিশালী মাধ্যম।
কেননা আমি মানুষ। তুমি ভাষা।
প্রকাশিত হও আমার জবানের দায়ে।

আমি গুরুত্বপূর্ণ। বেদন ও রোদন জানি।
আমি পরমহংস। দুধ থেকে পানি ছাঁকতে চিনি।
আমি তাপপরিবাহী। আমি স্বচ্ছ। জল ও হাওয়ার ঘর
প্রাকৃতিক। ক্লান্তিহীন। নির্বিবাদ থাকি। ধড় ও ঘাড় থেকে।

আমার মাঝ দিয়ে তুমি প্রবাহিত। ঝুমুরবিদ্যা।
নদী হয়ে বয়ে যাও । কলকল শব্দ ও মহিমা নিয়ে।
তুমি আমি হয়ে যাও। অবলীলায়। লীলায়। রঙ ও স্পর্শে।
বারুদে ও আগুনে। আমি দেহ ও বাষ্পের অধিক। অসূর্যাম্পস্পর্শা।

আমি স্পৃশ্য ও অস্পৃর্শের বন্ধন। শিমুল তুলার মতন ওড়ে গিয়ে জোড়া লাগাই।
নাটাই ও হাওয়া। আমারে পাওয়া সহজ না অত। যত ভাবো তুমি। অনিরাপদ। না।

তুমি আমি। আমি সমর্পণবিদ্যা জানি। আত্ম ও অহং
মায়া বরবাদ করে সকলি বেরিয়ে আসতে সমতল ছায়া থেকে
তুমি লুকানো সুন্দর। অপরূপ। অরূপ। নিরাকার। আমি সাকারে
রূপ ধরে তোমারে পাই। তুমি আদি ও শক্তি। প্রেম ও মায়া। মহাকরুণা।
আমার মাঝে প্রবাহিত। তোমার ভিতর উদয়অস্ত মহিমা। আমি প্রবাহিত সত্য। ভাষা। আমি মানুষ ও পরম।

প্রচ্ছদ হিম ঋতব্রত

Berger Weather Coat