পড়তে পারবেন 2 মিনিটে Berger Weather Coat

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটনার জন্য অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগকে দায়ী করা হয়েছে তিতাসের অনুসন্ধান কমিটির রিপোর্টে। এতে বলা হয়েছে- অবৈধ গ্যাস সংযোগের রাইজার থেকে ও পাইপ লাইনের ওপর মসজিদ নির্মাণ করায় লাইনের ছিদ্র থেকে নির্গত গ্যাস মসজিদে জমা হয় এবং বিদ্যুতের অবৈধ লাইন থেকে স্পার্কের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটে মসজিদে আগুন ধরেছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিতাস গ্যাসের অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহাব।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ দগ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ৩৭ জনকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ও মসজিদের ইমামসহ এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই বিস্ফোরণে মসজিদের ছয়টি এসি পুড়ে গেছে এবং থাই জানালার গ্লাস উড়ে গেছে।

এ ঘটনায় গত ১২ সেপ্টেম্বর মসজিদ পরিচালনা কমিটি, তিতাস গ্যাস ও ডিপিডিসির অবহেলাকে দায়ী করে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করেন ফতুল্লা মডেল থানার এসআই হুমায়ুন কবির।

মসজিদ কমিটির অভিযোগ, গ্যাস লিকেজের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে লিকেজ মেরামত করতে তিতাস গ্যাস থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। তারা ঘুষের টাকা জোগাড় করতে পারেননি বলে গ্যাস লিকেজ মেরামত করা যায়নি। মসজিদ কমিটির এ বক্তব্যে তোলপাড় শুরু হয়। এরপরই ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন, তিতাস গ্যাস, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও সিটি কর্পোরেশন পৃথক পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

মসজিদ কমিটির এ অভিযোগের বিষয়ে তিতাস গ্যাসের অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহাব বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘুষের বিষয়টি মিডিয়াকে ৬ মাস আগে জানানোর কথা বলেছে মসজিদ কমিটি। কিন্তু কমিটির কাছে সভাপতি বলেছেন ১৫ দিন আগে তিতাসকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছেন তা বলতে পারেননি। বললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের কাছে কে টাকা চেয়েছে, কল রেকর্ড পরীক্ষা করেও এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। মসজিদ নির্মাণের কোনো অনুমোদনও পাওয়া যায়নি বলে জানান অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক।

তবে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ঘটনার দায় অবশ্যই তিতাস ও ডিপিডিসির ওপর বর্তাবে। তাদের চোখ এড়িয়ে গেছে- এর দায় তারা এড়াতে পারেন না। যাদের দায়-দায়িত্ব রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে নেয়া হবে। রিপোর্ট জমা হয়েছে, এখন মন্ত্রণালয় যাচাই। এ রিপোর্ট কতটা যথাযথ পরীক্ষা করে দেখা হবে। সবাই তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে এমন দুর্ঘটনা ঘটার কথা নয়। আমরা যাচাই করে ব্যবস্থা নেব।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.