পড়তে পারবেন < 1 মিনিটে

অভিমান

অভিমান কত প্রকার হতে পারে সিদ্বার্থের চেয়ে
আর কে বেশি জানে
যৌবনবতী নারীর প্রতি তীব্র অভিমানে সে ঘর ছেড়েছিলো

আমারও বুকের ভেতর হাজার অভিমান
তবু আমি ঘর ছাড়তে পারি না
জানালা বন্ধ, দরোজা বন্ধ. হাত-চোখ-মুখ সব বন্ধ

পাখিদের কোনো অভিমান আপাতত টের পাচ্ছি না
ছোট্ট লেবুগাছ সেও প্রচুর সুগন্ধ ছড়ায়
নীল তিমি—ডলফিন একেবারে তীরের কাছে এসে বসে আছে
কোনো অভিমান নেই
নর্থ পোলের কোনো অভিমান নেই
শুধু আমি অভিমান করে বসে আছি

চুল দাড়ি নখ কিচ্ছু কাটছি না

বালক

কবে বালক থেকে বৃদ্ধ হয়ে গেলাম জানি না
তোমরা বলবে, পঞ্চাশ পার করেছে হে
আমার তো মনে হয় কয়েক বছর
অথচ এরই মধ্যে পুরনো টিনের বাড়িটা নষ্ট হয়েছে
সেখানে একতলা চার রুমের দালান এখন
কালো গাইয়ের নাতিরা মারা গেছে বহুদিন আগে
হেজে মজে মারা গেছে পুকুরটা
বাবা-মা কবরে দরুদ পড়ছে
নিমগাছটা মরে পড়ে আছে মাজা কাত করে
আমার কালো চুল সব সাদা
হনুর কাছে হাড় স্পষ্ট
গোঁফ দাড়ি ভয়ে রাখতে পারি না
শুধু চোখের দৃষ্টিশক্তি কম হলেও তাকাতে পারি বালকের মতো

উঠানে কিত কিত খেলার সময় তা আবিষ্কার করল এক বালক

দৃশ্যপাত

মা মরা মেয়েটা মায়ের দিকে নির্ণিমেষ তাকিয়ে থাকে
মরা মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে না
সেও বুঝে গেছে মৃত্যুভয়
জনাচারেক লোক এসে উঁচু করে ধরে মাকে
একটা কাঠের পাটাতনে রাখে
গাদা গাউন পরিয়ে দেয়
তাকে কেউ কিছু বলে না; সে ও কিছু বলে না

মরা মা জীবনের প্রথম বারের মতো গাড়িতে উঠলে
সে ডুকরে কেঁদে ওঠে

প্রচ্ছদ: রাজিব রায়

Berger Weather Coat

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.