পড়তে পারবেন 2 মিনিটে Berger Weather Coat

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

তিন বছর আগে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রাম কান কিয়ায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর পুরো গ্রাম বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গত বছর মিয়ানমার সরকার তাদের সরকারি মানচিত্র থেকেও এই গ্রামের নামটি মুছে ফেলেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। নাফ নদী থেকে প্রায় ৩ মাইল দূরে কান কিয়া গ্রামে কয়েকশ’ মানুষের বাস ছিল। ২০১৭ সালে রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে অভিযানের নামে মিয়ানমারের সেনারা আগুন লাগিয়ে দেয় এবং নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। ঐ সময় রাখাইন থেকে সাত লাখ ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন। মিয়ানমার সরকার সন্ত্রাস দমনের নামে ওই ‍অভিযান চালালেও জাতিসংঘ একে ‘জাতিগত নিধন’ বলে ‍অভিহিত করেছে।জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাদের বিরদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগে শুনানি চলছে।

স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কান কিয়া গ্রামটি যেখানে ছিল সেখানে এখন অনেক সরকারি এবং সেনাবাহিনীদের জন্য ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে পুলিশের ঘাঁটিও তৈরি করেছে মিয়ানমার সরকার।

২০২০ সালে জাতিসংঘের ম্যাপিং ইউনিটের কাছে পাঠানো মিয়ানমারের সরকারি মানচিত্রে দেখা যায় ওই জায়গাটিকে এখন কাছের মংডু শহরের বর্ধিত অংশ বলা হচ্ছে।

২০১৭ সালের অভিযানের সময় মিয়ানমার সেনাবাহিনী কান কিয়ার মত কমপক্ষে চারশ’ গ্রাম ধ্বংস করেছে বলে জানায় নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’। তারা স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে। ধ্বংস করা গ্রামগুলোর মধ্যে কান কিয়াসহ অন্তত এক ডজন গ্রামের নাম এখন মানচিত্র থেকেও মুছে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ রফিক বলেন, তারা চায় আমরা যেন আর ফিরে না যাই। মোহাম্মদ রফিক কান কিয়ার কাছের আরেকটি গ্রামের চেয়ারম্যান ছিলেন। ।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য পুনঃগঠনের দায়িত্বে রয়েছে দেশটির সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে গ্রামের নাম মুখে দেওয়ার বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে তার কোনো কিছু বলতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রয়টার্সকে মিয়ানমারের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টে (জিএডি) যোগাযোগ করতে বলে। সেখানে যোগাযোগ করে কারো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধির কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে তারা কোনো মন্তব্য করে রাজি হয়নি।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.