পড়তে পারবেন 2 মিনিটে Berger Weather Coat

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভূগোল ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের দুই অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পৃথক পৃথক নোটিশে তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

এরা হচ্ছেন ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুদ্দীন ইলিয়াস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান।

এছাড়াও জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতর থেকে দেয়া পৃথক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে বরখাস্ত করার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার সদস্যদের নিয়ে ফেসবুকে অশালীন ও চরম আপত্তিজনক মন্তব্য করায় প্রথমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২ সেপ্টেম্বরের সিন্ডিকেট বৈঠকে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফয়জুল করিম বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান সম্প্রতি ফেসবুকে অশালীন ও আপত্তিজনক মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত, ঢাকায় মামলা দায়ের করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াহিদুজ্জামান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। কিন্তু, আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। চাকুরিবিধি অনুযায়ী কারাগারে সোপর্দ হওয়ার দিন হতে সহকারী অধ্যাপক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে তিনি পলাতক থাকেন।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উক্ত শিক্ষকের এ ধরনের অশালীন ও চরম আপত্তিজনক মন্তব্যের জন্য এবং তার নিরুদ্দেশ থাকার বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধি অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তদন্ত প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ২০৯তম সভায় শিক্ষক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হয়।

একইদিনে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অপর বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুদ্দীন ইলিয়াসকেও ২ সেপ্টেম্বরের সিন্ডিকেট বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘দায়িত্ব পালনে অবহেলা’, ‘অসদাচরণ’ এবং ‘নৈতিক স্খলন’ জনিত কারণে আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

একই দিনে জারি করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমানকেও ২ সেপ্টেম্বরের সিন্ডিকেট বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘দায়িত্ব পালনে অবহেলা’, ‘অসদাচরণ’, ‘পলায়ন’ এবং ‘প্রতারণা’র দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.