।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

 জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র সাড়ে তিন বছরে আমাদের জন্য সবকিছু গড়ে দিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি প্রথম ক্ষমতায় এসে দেখলাম রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য সবকিছুর ভিত তৈরি করে গেছেন বঙ্গবন্ধু। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ মানুষের মৌলিক চাহিদা কীভাবে পূরণ হবে, দেশের আইন কী হবে, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, গরিবের সহায়তা করাসহ সব বিষয়ে তিনি কাজ করে গেছেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ যৌথভাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভা এবং মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমানা নির্ধারণ ও সমুদ্রসীমা নির্ধারণে বঙ্গবন্ধু কাজ করেছেন। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, কোনও রিজার্ভ নেই, সেখান থেকে দেশকে নিয়ে তিনি যেভাবে এগিয়ে গেছেন, তা আমাদের জন্য বিস্ময়। তিনি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশসহ সবকিছুর ভিত তৈরি করে দিয়ে গেছেন। জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথসহ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সব গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সদস্য করে গেছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানি হানাদারেরা আগে রাজারবাগে আক্রমণ করে, ওই রাতেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার আগে ৭ মার্চের ভাষণে তিনি গেরিলা যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে ধরে নিয়ে পাক বাহিনী নির্যাতন করেছিল, মামলা দিয়েছিল, কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তারা বঙ্গবন্ধুকে অপরাধী প্রমাণ করতে পারিনি। জনমত সব সময় তিনি পক্ষে পেয়েছেন।

সরকার প্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধু এতকিছু করার পর কিছু কিছু লোক লেখে কোনও উন্নয়নই নাকি হয়নি। কেন? কী উদ্দেশ্যে তারা এগুলো বলে। অনেকে গণতন্ত্রের কথা বলে। মার্শাল ল দিয়ে কখনও গণতন্ত্র হয় না। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর আমাদের পার্টির অনেক নেতাকে হত্যা করেছেন। অনেককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছেন, আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। যারা রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, এমন সেনা অফিসারদের হত্যা করেছেন। চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। জিয়ার সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে একেক রাতে ৮-১০ জন করে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চাটুকার কিছু মানুষ গণতন্ত্রের কথা বলেন। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য। আর গণতন্ত্র থাকলেই কেবল মৌলিক চাহিদা পূরণ সম্ভব। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই মানুষ গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছে। খাবার পেয়েছে। আশ্রয় পেয়েছে। চিকিৎসা পেয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, মিলিটারি ডিকটেটর দ্বারা তৈরি করা দলের কেউ যেন আমাদের দলে না আসে। তারা উড়ে এসে জুড়ে বসে। তারা আমাদের জন্য ক্ষতিকারক। তৃণমূল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সংগঠন বিস্তৃত। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আওয়ামী লীগ আছে বলেই দেশ পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল, এই দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, যখন আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, তখন এলো করোনাভাইরাস। বাংলাদেশ শুধু নয়, সারা বিশ্বের অর্থনীতি আজ স্থবির। তারপরও আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের রেমিট্যান্স বেড়েছে। আমাদের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে পিছিয়ে না পড়ে, এ জন্য আমরা প্যাকেজ দিয়ে যাচ্ছি। কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে, সারের দাম কমানো হয়েছে। আমাদের সব সহযোগী সংগঠন ধান কেটে কৃষকদের ঘরে তুলে দিয়েছে। করোনাভাইরাসে অন্য দেশে হাহাকার হলেও আমাদের দেশে তা নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরে চলতে হবে। আমাদের লক্ষ্য মৃত্যু হার কমিয়ে আনা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমাদের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমাদের পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী, আনসার সবাই করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

Berger Weather Coat