।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

চীনের পশ্চিমাঞ্চলের জিংজিয়ান উইঘুর স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের আতুশ (চীনা নাম আতুশি) শহরে একটি মসজিদের জায়গায় শৌচালয় নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেডিও ফ্রি এশিয়া।

এই সংবাদটি গত ৫ দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় আসতে দেখা যায়।

এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি তাদের খবরে বলেছে, উইঘুর মুসলিমদের মনোবল ভেঙে দেয়ার ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এমনটা করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

অতুশের সানতাগ গ্রামের টোকুল মসজিদের স্থানে শৌচাগার নির্মাণের এই তথ্য দিয়ে রেডিও ফ্রি এশিয়ার উইঘুর সার্ভিস জানায়, সেখানে তিনটি মসজিদের মধ্যে দুটি ভেঙে ফেলা হয়। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া ‘মসজিদ রেকটিফিকেশন’ নামের কাজের আওতায় এটি করা হয়। এখন এর একটিতে শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে।

মসজিদ কমিটির এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদস্যের বরাত দিয়ে খবরে জানানো হয়, ২০১৮ সালে মসজিদটি ভেঙে সেখানে শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। তিনি বলেন, ‘এটি একটি গণশৌচাগার। তবে এখনও তা চালু করা হয়নি।’

অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে খবরটি আলোচিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চীনা কূটনীতিকরা এর প্রতিবাদ করছেন। বুধবার ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের ডেপুটি মিশন প্রধান হুয়ালং ইয়ান ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে দাবি করেছেন, এই খবরটি মিথ্যা।

তিনি লিখেছেন, ‘রেডিও ফ্রী এশিয়ার একটি তথাকথিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে সিনজিয়াং প্রদেশে মুসলমানদের চেতনা ধ্বংস করার জন্য একটি প্রাচীন মসজিদের ধ্বংসাবশেষের উপর একটি গণশৌচাগার (পাবলিক টয়লেট) নির্মাণ করা হয়েছে। এটি একটি চুড়ান্ত মিথ্যা এবং কিছু অভিনেতার মাধ্যমে চীনের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার একটি নতুন প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।’

একটি ভিডিওসহ পোস্টটিতে ইয়ান আরও লিখেছেন, ‘বর্তমানে সিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যা ২৫ মিলিয়ন, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিতে ২৪৮০০ ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে যার মধ্যে ২৪৪০০ টি মসজিদ। সেখানে প্রায় ২৯৩০০ জন ধর্মীয় কর্মী রয়েছে। সিনজিয়াং এমন কোনো অঞ্চলের মত নয় যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতাকে পদদলিত করা হয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। আসুন, একনজরে দেখে নেয়া যাক একটি চীনা মসজিদে কিভাবে মুসলিমরা তাদের জুমার নামাজ আদায় করছেন। ভিডিওটি ২০১৯ সালের নভেম্বরে ধারণকৃত।’

Berger Weather Coat