পড়তে পারবেন 2 মিনিটে Berger Weather Coat

।। বিডিনিউজ/টাইমস অব ইন্ডিয়া ।।

এই বছরের মধ্যেই ভারতীয়রা অক্সফোর্ডের গবেষকদের উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ টিকা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যে টিকা উৎপাদনে ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানও সহযোগী হিসেবে রয়েছে।

সেরাম ইনস্টিটিউটি অফ ইন্ডিয়ার (এসআইই) কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে টাইমস অব ইন্ডিয়া বুধবার এই খবর দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনকার সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অক্সফোর্ডের টিকাটি উৎপাদন করবে ভারতের পুনেভত্তিক এই প্রতিষ্ঠান।

“যদি টিকাটি ভারতে উৎপাদনের অনুমোদন পায়, তার মানে হল টিকাটি দেওয়া যাবে,” বলেন সেরাম ইনস্টিটিটিউটের এক কর্মকর্তা।

সেরামের সঙ্গে অ্যাস্ট্রাজেনকার উৎপাদন সংক্রান্ত চুক্তি অনুযায়ী, মোট উৎপাদনের অর্ধেক ভারতে ব্যবহার করতে চায় তারা।

এই টিকাটি পেতে বাংলাদেশও আগ্রহী; এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অংশীদার হতে চাওয়ার কথা ইতোমধ্যে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোতে সাফল্যের মুখ দেখার পর মানবদেহে প্রয়োগের চূড়ান্ত পরীক্ষায় পর্যায়ে রয়েছে ‘কোভিশিল্ড’ নামের টিকাটি।

ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশে অক্সফোর্ডের ওই টিকাটির প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ইতিবাচক ফলও মিলেছে তাতে। নিয়মানুযায়ী কোনো বিদেশি সংস্থার টিকা ভারতের বাজারে ছাড়তে হলে সে দেশের জনগণের উপরে তা পরীক্ষা করে দেখার নিয়ম রয়েছে। সে কারণেই সেরাম ভারতে ‘কোভিশিল্ড’ টিকাটির তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ভারতের ১৭টি এলাকায় ১ হাজার ৬০০ জনের উপর টিকাটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হতে যাচ্ছে।

১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি সুস্থ ও নিরোগ স্বেচ্ছাসেবকদের দু’দফায় ওই টিকা দেওয়া হবে। এ জন্য ১৪ দিন তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হবে প্রায় দু’মাস।

তারপর ওই পরীক্ষার ফল ও বিশ্বের অন্য প্রান্তে হওয়া পরীক্ষার ফল খতিয়ে দেখে তবেই এই টিকা বাজারে ছাড়ার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেবে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

ভারতের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, “সমস্ত গবেষণার তথ্য ড্রাগ কন্ট্রোলার অব ইন্ডিয়ার কাছে জমা দিতে হবে। সব কটি ধাপের ফল খতিয়ে দেখে তার পরেই ভারতে ছাড়ার প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

সেরাম এবছরের ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা প্রয়োগে আশাবাদী হলেও ভারতের বাজারে কবে ওই টিকা আসতে পারে তা নিয়ে কোনও ভবিষ্যৎবাণী করতে চাননি দেশটির টিকা অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সদস্য ভি কে পল।

তিনি বলেন, “এভাবে দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায যেমন সাফল্য মিলতে পারে, তেমনই ব্যর্থ হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।”

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টিকা উৎপাদন সংস্থা সেরাম প্রতি মাসে অন্তত ১০ কোটি কোভিড-১৯ টিকা উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিপুল সংখ্যক টিকার উৎপাদন ব্যয় মেটাতে বিল ও মিরিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে পাওয়া ১৫ কোটি ডলার সাহায্যের পরও বাজার থেকে আরও ১০০ কোটি ডলার অর্থ সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে সেরামের।

বিশ্বে মহামারী রূপ নেওয়া নতুন করোনাভাইরাসের কোনোভাবে না পেরে এখন টিকার আশায় বসে আছে গোটা বিশ্ব।

রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে টিকা উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে, যদিও তার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের টিকা এখন তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে অক্সফোর্ডের টিকাটির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার টিকাটি নিয়ে বেশি আশাবাদী গবেষকরা।

ভারতে আরও দুটি টিকা মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে ভারত বায়োটেক ‘কোভ্যাক্সিন’ ও জাইডাস ক্যাডিলার ‘জাইকোভ-ডি’ টিকা মানবদেহে প্রয়োগের প্রথম ধাপ পেরিয়েছে।