পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

।। সংবাদদাতা, কলকাতা ।।

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের একটি বছর বুধবার (৫ আগস্ট) পুর্ণ হলো। গত একবছরে উপত্যকার মানুষদের জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে? এই বিষয় নিয়ে আগ্রহ শুধুমাত্র কাশ্মীর কিংবা ভারত নয়, সমগ্র বিশ্বের রাজনৈতিক মহলে। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতের লোকসভায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণায় কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ সরিয়ে নেওয়া হয়।

৩৭০ আর্টিকাল বা অনুচ্ছেদ সরিয়ে নেওয়ার ফলে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ তৈরি  হয়েছে। ওই সময়ে ভারত সরকারের তরফে এই ঘোষণা ফলে বিরোধী দলগুলির তরফে এই বিষয়ে যথেষ্ট সমালোচনা শুরু হয়েছিল।

এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সন্দীপ মুখার্জী বলেন, কাশ্মীর হয়তো তার সমস্ত সমস্যার সমাধানগুলি এখনো সম্পূর্ণভাবে পায়নি। কিন্তু জম্মু এবং লাদাখ আলাদা হওয়ায় কাশ্মীরের একচ্ছত্র আধিপত্য থেকে তারা মুক্তি পেয়েছে। ফলে অঞ্চলভিত্তিক সমস্যাগুলিও আলাদা করা গেছে। তবে আমার মনে হয় আরও সময় লাগবে সব সমস্যা মিটতে।

Erborian RU

পাশাপাশি সন্দীপ মুখার্জী বলেন, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আসা অত্যাচারিত রিফিউজিসহ ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে আসা শ্রমিক পরিবাররা নাগরিকত্বের সুযোগ পেয়েছেন। এর আগে এই সম্প্রদায়ের মানুষরা ভারত কেনো কাশ্মীরে চাকরির সুযোগ পেতেন না।

তার মতে, বাতিলের পর নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলিতে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। এই পদক্ষেপ কাশ্মীরের মহিলাদের নতুন অধিকার প্রাপ্তি হয়েছে। এছাড়া একইভাবে ওই অঞ্চলের পিছিয়ে থাকা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনের উন্নতির হচ্ছে। তার মতে ধারা বাতিলের পর বেকারত্বে সমাধান শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিষয়ক উন্নতি হচ্ছে বলে মনে করেন।

পাশাপাশি, কাশ্মীরের রাজনীতিতেও লক্ষণীয় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন তিনি। বাতিলের ফলে বিগত দিনের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে হচ্ছে। এছাড়া ৩৭০ বিলোপের পরে কাশ্মীরী নারীরা কাশ্মীরের বাইরের পুরুষদের বিয়ে করার অধিকার পেয়েছেন। তাতে কাশ্মীরি নারীদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতে হবে না। যা আগে হতো না।

প্রসঙ্গত, ধারা বাতিলের আগে অন্য রাজ্যে কাশ্মীরি নারীরা বিয়ে করলে সেই নারী, কাশ্মীরের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতেন।

Berger Weather Coat