পাখি, কাকতাড়ুয়া এবং মানুষ

একদা প্রান্তরের পথে হেঁটে গেলে
পাখিরা পালিয়ে যেতো আমাকে দেখে,
ভাবতাম, ওরা বোধহয় আমাকে ভাবছে কাকতাড়ুয়া!

এখন এ পথে অবাধে পাখিদের হাঁটাহাঁটি
আমার দিকে সব চোখ পাকিয়ে তাকায়,
পালিয়ে যায় না আর আগের মতো—
ভাবি, ওরা কী আমাকে এখন ভাবছে শুধুই মানুষ!

আজ শস্যক্ষেতে দেখলাম দু’হাত বাড়িয়ে
কাকতাড়ুয়া এক দাঁড়িয়ে রয়েছে ঠায়,
হাঁড়িমাথা-চোখ-নাক-মুখ সেই মানুষেরই মতো
পাখিরা মোটেই পাচ্ছে না আর ভয়—
সাবাড় করছে শস্য সমুদয়!

তবে কি পাখিরা এখন কাকতাড়ুয়াকে ভাবছে মানুষ
আর মানুষকে কাকতাড়ুয়া?

বনমানুষের মেলা

একদিন এ বিশ্ব শাসন করবে বৃক্ষ
মানুষের প্রার্থনায় আর তুষ্ট নন ঈশ্বর—
মানুষ বিপন্ন আজ; বিলুপ্তির পথে
দিকে দিকে বিজয় নিশান উড়ছে তাই—
দূর্বার বৃক্ষরথে!

মানুষের শেষ প্রজম্মের প্রতিনিধি আমি
বৃক্ষরাজের কাছে সবিনয় করি নিবেদন—
সম্পূর্ণ বিলুপ্তির আগে কিছু কিছু মানুষকে তুমি
রেখে দাও মাটির টবে বনমানুষ করে
যেন ভবিষ্যৎ বৃক্ষেরা জানতে পারে ইতিহাস—
নির্বোধ মানবজাতির বিলুপ্তি বিলুপ্তি খেলা!

কোনো অরণ্যনগরে যেন—
বছর বছর আয়োজিত হয় বনমানুষের মেলা।

বেড়িবাঁধ

একদিকে নদীর প্লাবন
তলিয়েছে তীরবর্তী বাড়িঘর—
ফসলের মাঠ
গাছগাছালি, বাজার, ঘাট।

অন্যদিকে সব ঠিকঠাক
কৃষকের হাঁকডাক—
চলছে জমি চাষ
পুকুরে ব্যস্ত পাতিহাঁস।

একদল বলছে—
কেটে দেয়া যাক,
অন্য দলের কথা—
তেমনই থাক!

উভসংকটে বেড়িবাঁধ!

প্রচ্ছদ: হিম ঋতব্রত

Berger Weather Coat