পড়তে পারবেন 6 মিনিটে

অতীশ দীপংকরের দেশ এই বাংলাদেশ। আবার ‘জেন’ শব্দটি মূল যে শব্দ থেকে এসেছে সেটিও এ উপমহাদেশের। এরপরও এদেশে জেন ঠিক সুপরিচিত বলে বোধ হয় না। ‘জেন’ শব্দটি জাপানি। এই শব্দটি মূলত সংস্কৃত ‘ধ্যান’ শব্দের চীনা রূপ হতে জাপানে গিয়ে ‘জেন’ হয়ে যায়।
বলা হয়ে থাকে যে বুদ্ধ তাঁর বৃদ্ধবয়সে একবার এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মোপদেশের জন্য শিষ্যদের ডাকলেন। শিষ্যেরা সবাই একত্র হয়ে নীরবে অধীর আগ্রহে বসে আছেন। বুদ্ধ ফুল বিছানো মণ্ডপে উঠে আসলেন। তাঁর শিষ্য ও ভিক্ষুদের দিকে তাকালেন। এরপর নুইয়ে পড়ে একটি ফুল তুলে নিয়ে তাঁর চোখ বরাবর ফুলটি ধরলেন। এরপর কোনো কথা না বলে নিজ আসনে ফিরে গেলেন। শিষ্যেরা এক অন্যের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকলেন। একমাত্র মহাকাশ্যপ বুদ্ধের দিকে চেয়ে প্রশান্তভাবে হাসলেন। বুদ্ধও তাঁর দিকে চেয়ে হাসলেন এবং নীরবে সেই অব্যক্ত উপদেশ দান করলেন। সে মুহূর্তেই নাকি জেন-এর জন্ম।
মহাকাশ্যপ ও বুদ্ধের এই সাক্ষাতের পর প্রায় হাজার বছর পার হলো। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জেন হস্তান্তরিত হয়ে একসময় বোধিধর্মের কাছে পৌঁছল। বোধিধর্ম ছিলেন দক্ষিণ ভারতের এক ভিক্ষু। তিনি দক্ষিণ চীনে প্রবেশ করে পরে একসময় উত্তর চীনে অবস্থান নেন। ৩১৮ থেকে ৫৩৪ সালের মধ্যের কিছু সময়ে তিনি চীনে ছিলেন। বোধিধর্ম এই জেন-এর ধারা চীনে প্রশস্ত করলেন। বোধিধর্মর প্রথম উত্তরাধিকারী হুইকে। হুইকে এবং তাঁর পরবর্তী দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম উত্তরাধিকারী সম্বন্ধে তেমন কিছু জানা যায় না। এভাবে বোধিধর্মের পর প্রায় এক শতাব্দী পার হয়ে গেল। এরপর ষষ্ঠ উত্তরাধিকারী হলেন এক চীনা দার্শনিক ও ধর্মতত্ববিদ হুই-নেং (৬৩৮-৭১৩)। তিনি জেনকে বৌদ্ধধর্মের একটি শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করলেন।
হুই-নেং হতে জেন প্রসারিত হলো। এরপর চীনে একসময় পাঁচটি পরিপূর্ণ ধারা প্রতিষ্ঠা পেল: ক্যাওডং, লিনজি, গুইয়াং, ফেয়্যান ও য়্যুনমেন। এর বাইরেও কিছু গৌণ ধারা ছিল। এরিমধ্যে জেন ভিয়েতনাম ও কোরিয়ায় প্রবেশ করে বিস্তার লাভ করে। আলোকপ্রাপ্ত হওয়ার এই মরমী অভিজ্ঞতার জ্ঞান চীনে গিয়ে লাও ৎজু-এর শিক্ষা দ্বারা প্রভাবিত হলো। জেন-এর বীজ ভারত থেকে চীনে গেলেও সেখানে সেটি তাওবাদ দ্বারা প্রভাবিত হলো। তবে জাপানে না পৌঁছানো পর্যন্ত জেন যেন পূর্ণতা পেল না। জাপানে জেন এক ধারায় স্ফটিক রূপ পেল। জাপানে জেন যেমন সাদরে গৃহীত হলো তেমনি সেটি অভিযোজিতও হলো। জাপানের বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর কাছে জেন ব্যাপক প্রিয়তা পেল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে জাপানে জেনবাদীর সংখ্যা হয়ে দাঁড়ালো পঞ্চাশ লাখ। তবে অনেক জেনবাদী আবার মনে করেন যে জাপানে জেন আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব, এক বংশপরস্পরাগত মরমী ব্যবসায়-এ পরিণত হয়েছে। আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কিছু জেনবাদীর যুদ্ধবাদিতা ও উগ্র জাতীয়তাবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য জাপানি জেন ধারা সমালোচিত হয়। উত্তরকালের পাঠকের জন্য সাতটি জেন গল্প অনুবাদ করেছেন হাসিনুল ইসলাম

চাঁদ তো চুরি করা যায় না

❑ 

জেন গুরু রিওকান পাহাড়ের তলায় এক ছোট কুঁড়েঘরে একেবারে সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। এক সন্ধ্যেয় এক চোর তাঁর কুঁড়েয় ঢুকে বুঝল যে সেখানে চুরি করার মত কিছুই নেই।
রিওকান সেসময়ই ঘরে ফিরছিলেন এবং চোর ধরে ফেললেন। তিনি চোরকে বললেন, ‘আপনি হয়ত অনেক পথ পার হয়ে আমার ঘরে এসেছেন। আপনার খালি হাতে ফেরা উচিত নয়। আমার এই পোশাক আপনি উপহার নিন।’
চোর তো হতবাক। কাপড় নিয়ে সে সরে পড়ল।
রিওকান ধ্যানে বসলেন। নগ্ন। চাঁদের দিকে তাকিয়ে ভাবলেন, ‘আহা, সুন্দর চাঁদটা যদি তাকে দিতে পারতাম!’

হোশিনের শেষ কবিতা

❑ 

জেন গুরু হোশিন বহু বছর চীনে ছিলেন। এরপর জাপানের উত্তর-পূর্ব অংশে এক জায়গায় ঘাঁটি গাড়লেন। সেখানে তিনি শিষ্যদের জেন শেখাতেন। তিনি যখন খুব বুড়ো হয়ে গেলেন, তখন একদিন শিষ্যদের এক গল্প বললেন:
তোকুফু যখন বুড়ো হয়েছেন তখন এক বড়দিনে শিষ্যদের বললেন, ‘আগামী বছর পর্যন্ত আমি বাঁচব না। এ বছরটা পারলে আমার যতœ নাও।’
ছাত্ররা ভাবল গুরু ঠাট্টা করছেন। তবে তিনি খুব বড় মনের মানুষ হওয়ায় তারা পালা করে তাঁকে ভালমন্দ খাওয়াতে থাকল আর যতœ নিল।
বছরের শেষ সন্ধ্যায় তোকুফু জানালেন, ‘তোমরা আমার খুব যতœ নিয়েছ। কাল বিকেলে তুষার পড়া থামলে আমি তোমাদের ছেড়ে যাবো।’
শিষ্যরা হাসলো, ভাবলো গুরুর বয়স হয়েছে। তারা ভাবলো বুড়ো গুরু ভুল বকছেন কারণ তারা দেখতে পাচ্ছিল যে রাতটা বেশ পরিষ্কার, তুষারপাতের কোনো চিহ্ন তখন ছিল না। কিন্তু মাঝরাতে তুষারপাত শুরু হলো। পরদিন তারা শিক্ষককে খুঁজে পেল না। খুঁজতে খুঁজতে তারা ধ্যানঘরে পৌঁছে দেখল তিনি মারা গেছেন।
গল্পটি বলার পর হোশিন শিষ্যদের বললেন, ‘জেন সাধককে যে তাঁর মৃত্যুর কথা বলতেই হবে তা জরুরি নয়। তবে তিনি চাইলে তা করতে পারেন।’
কেউ একজন বলে বসলো, ‘আপনি পারেন?’
হোশিন বললেন, ‘পারি। সাতদিনের মধ্যে দেখবে।’
কেউই বোধহয় সেভাবে কথাটা বিশ্বাস করলো না। আর তাই সাতদিন পরে তিনি যখন শিষ্যদের একসঙ্গে ডাকলেন তখন অনেকেই ইতোমধ্যে সে কথা ভুলে গেছে।
হোশিন এবার বললেন, ‘সাত দিন আগে বলেছিলাম আমি তোমাদের ছেড়ে যাবো। এরকম সময় একটা বিদায়ী কবিতা লিখে যাওয়ার রীতি আছে। আমি কবি না, চারুলিপিকরও না। তোমাদের কেউ একজন আমার শেষ কথাগুলো লেখো।’
শিষ্যেরা ভাবলো গুরু ঠাট্টা করছেন। একজন অবশ্য লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
‘প্রস্তুত?’ হোশিন জানতে চাইলেন।
‘জি, হ্যাঁ।’
হোশিন এবার শ্রুতিলিখন দিলেন:
প্রভা থেকে আসি
আর প্রভায় ফিরে যাই
এ সব কী?
প্রচলিত চার পঙক্তির চেয়ে এক পঙক্তি কম হওয়ায় শিষ্যটি বলল, ‘গুরুজী, এক পঙক্তি কম হলো।’
হোশিন এবার বিজয়ী সিংহের মত গর্জে উঠলেন, ‘কা!’ অর্থাৎ উচ্চরোল হাসি। হোশিন মারা গেলেন।

প্রকৃত বন্ধু

❑ 

বহুকাল আগে চীন দেশে দু’বন্ধু ছিল। একজন খুব ভাল বীণা বাজাতে পারত; আরেকজন ছিল এক সমঝদার শ্রোতা । বীণাবাদক বন্ধু পাহাড় প্রসঙ্গে সুর তুললে অন্যজন বলত, ‘আমাদের সামনে পাহাড়টা দেখতে পাচ্ছি!’
আবার পানি বিষয়ে সুর ধরলে অন্য বন্ধু বলত, ‘এইতো কলকল করে পানির ধারা এগোচ্ছে!’
শ্রোতা বন্ধুর হঠাৎ অসুখ হলো এবং সে মারা গেল। বাজিয়ে বন্ধু বীণার তার ছিঁড়ে ফেলল। এরপর সে আর কখনো বীণা বাজায়নি।
তখন থেকে তার-ছেঁড়া বীণা গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক।

শুনকাইয়ের কাহিনি

❑ 

অপূর্ব সুন্দর মেয়ে শুনকাইয়ের অন্য নাম শুজু। খুব অল্প বয়সে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে বিয়ে করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে তার বিয়ের সমাপ্তিতে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন পড়তে গেল।
তাকে দেখলেই যেন প্রেমে পড়তে হয়। আর সেও যেখানেই যেত কারো না কারো প্রেমে পড়ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেম তার সারাক্ষণের সঙ্গী ছিল। কিন্তু দর্শন তাকে তৃপ্ত করতে ব্যর্থ হলে এক মঠে গিয়ে জেন শেখার চেষ্টা করল শুনকাই। সেখানে জেন ছাত্ররা তার প্রেমে পড়ল। শুনকাইয়ের জীবন যেন প্রেমে আচ্ছন্ন হয়ে থাকল।
শেষমেষ কিয়োতোতে সে প্রকৃত জেন শিক্ষার্থী হয়ে উঠল। কেন্নিন মন্দিরের জেনবাদী সতীর্থ ভাইয়েরা তার নিষ্ঠার প্রশংসা করত। তাদের একজন এক পূণ্যাত্মা। সেই সতীর্থ শুনকাইকে জেন সাধনায় সাহায্য করা শুরু করল।
কেন্নিন মঠের গুরু মোকুরাই অর্থাৎ স্তব্ধ-বজ্র খুব কঠোর ছিলেন। তিনি নিজে সব নিয়ম-নীতি মানতেন আর শিষ্যরাও তাই করুক তা চাইতেন। অনেকে বলে থাকে, আধুনিক সময়ে এমন কঠোর জেন সাধকরা বৌদ্ধধর্মের অনেক কিছু ভুলে গেলেও অন্তরে স্ত্রী জাতির প্রতি বিদ্বেষ তীব্র করেছিল। মোকুরাই কোন নারীকে মঠে দেখলে ঝাড়ু হাতে তাড়া করতেন। কিন্তু যতই তাড়াক না কেন, নারীরা মঠে ভিড় করতই।
এই মঠের প্রধান পুরোহিতের স্ত্রী শুনকাইয়ের নিষ্ঠা ও সৌন্দর্যের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ল। জেন শিক্ষার্থীরা শুনকাইয়ের প্রশংসা করলেই পুরোহিতের স্ত্রী ভেতরে ভেতরে তেলে বেগুনে জ্বলতেন। একসময় সে শুনকাই আর সেই পূণ্যাত্মা সতীর্থকে জড়িয়ে এক রটনা রটালো। এর ফলে সেই সতীর্থ মঠ থেকে বিতাড়িত হলো এবং শুনকাইকেও মঠ ছাড়তে হলো।
শুনকাই ভাবলো, ‘আমি হয়তো প্রেমের ভুল করেছি। কিন্তু তরুণ সাধকের ওপর যে অবিচার হলো তাতে পুরোহিতের স্ত্রীরও মঠে থাকার অধিকার নেই।’
সেই রাতে এক পাত্র কেরোসিন ঢেলে শুনকাই পাঁচশ বছরের পুরনো সেই মঠে আগুন ধরিয়ে দিল। সকালে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেল।
এক তরুণ আইনজীবী তার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে তার সাজা কমানোর চেষ্টা করলে শুনকাই বললো, ‘আমাকে সাহায্য করবেন না। আমি হয়ত আরেকটা কিছু করে বসব যার ফলে আবার আমাকে জেলে ঢুকতে হবে।’
একসময় সাত বছরের সাজা শেষ হলো। শুনকাই জেল থেকে বেরোল। জেলের ষাট বছরের বুড়ো ওয়ার্ডেন ততদিনে শুনকাইয়ের প্রেমমুগ্ধ।
বাইরে বেরিয়ে সে দেখল সবাই তাকে জেলঘুঘু ভাবছে। কেউ তার সঙ্গ চায় না। এমনকি জেনবাদীরাও তাকে এড়িয়ে চলল। শুনকাই দেখল, জেন এক জিনিস আর জেনবাদী যেন অন্য কিছু। তার আত্মীয় স্বজনেরাও তার দেখাশোনা করল না। সে অসুস্থ, গরিব এবং দুর্বল হয়ে পড়ল।
সে একসময় শিনশু সম্প্রদায়ের এক পুরোহিতের দেখা পেলো। পুরোহিতের কাছে শেখা প্রেমময় বুদ্ধের নামজপ শুনকাইকে সান্ত্বনা ও শান্তি দিল। তিরিশ বছর বয়সে যখন সে মারা গেল তখনও সে অপরূপা সুন্দর।
জীবন নির্বাহের ব্যর্থ উপায় হিসেবে সে আত্মকথা লেখা শুরু করেছিল। এক শ্রুতিলেখিকাকে দিয়ে কিছু অংশ লিখিয়ে নিয়েছিল। এভাবে তার জীবনের কিছু অংশ জাপানি মানুষের কাছে পৌঁছে। শুনকাইকে যারা ত্যাগ করেছিল, যারা তার বিরুদ্ধে কলংক রটিয়েছিল আর যারা তাকে ঘৃণা করত তারা সবাই এবার তার কাহিনি পড়ে অনুশোচনায় চোখের পানি ফেলল।

এক বুদ্ধ

❑ 

মেইজি যুগে টোকিওতে বিপরীতধর্মী ব্যক্তিত্বের দুই বিখ্যাত শিক্ষক ছিলেন। একজনের নাম আন্শো। তিনি শিংগন ধারার অনুসারী এবং খুবই নিয়মতান্ত্রিক। তিনি কখনো মদ জাতীয় কিছু ছুঁতেন না, আবার সকাল এগারটার পর কিছু খেতেন না।
অন্যজন তানজান। ইমপেরিয়াল য়ুনিভার্সিটির দর্শনের অধ্যাপক। কখনো তেমন নিয়ম মানতেন না। খেতে ইচ্ছে হলে খেতেন, ঘুমোতে ইচ্ছে হলে ঘুমোতেন।
একদিন আন্শো তানজানের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। তানজান সেসময় মদ পান করছিলেন অথচ একজন বৌদ্ধের তা একফোঁটাও ছোঁয়ার কথা না।
তানজান অভ্যর্থনা জানিয়ে বললেন, ‘কি হে, ভাই । এক গ্লাস চলবে নাকি?’
আন্শো গম্ভীরভাবে বললেন, ‘আমি মদ পান করি না।’
তানজান বললেন, ‘যে মদ খায় না সে তো মানুষই না।’
আন্শো রেগে উঠে বললেন, ‘এসব পানের নেশা নাই বলে আপনি আমাকে অমানুষ বললেন। আচ্ছা, আমি যদি মানুষ না হই, তাহলে আমি কী?
’বুদ্ধ,’ তানজানের ছোট্ট উত্তর।

কাদা রাস্তা

❑ 

তানজান আর ইকিদো একদিন এক কাদা রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন। তখনো প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে।
এক বাঁকের মুখে এসে তারা ঝালরওয়ালা রেশমী কিমোনো পরা এক কমনীয় মেয়েকে দেখতে পেল। মেয়েটি কাদাভর্তি মোড়টি পার হতে পারছিল না।
তানজান বললেন, ‘এই যে, এদিকে আসেন।’ মেয়েটি এগিয়ে এলে মেয়েটিকে কোলে তুলে নিয়ে তানজান কাদাপানি পার করে তাকে নামিয়ে দিলেন।
সেদিন রাতে মন্দিরে না পৌঁছা পর্যন্ত ইকিদো আর কোন কথাই বললেন না। এরপর নিজেকে আর সংবরণ করতে না পেরে বললেন, ‘আমরা ভিক্ষুরা মেয়েদের কাছে যাই না। যুবতী সুন্দরী হলে তো কথাই নেই। এমন করা তো বিপজ্জনক। আপনি অমন করলেন কেন?’
‘আমি মেয়েটাকে ওখানেই নামিয়ে রেখে এসেছি,’ তানজান বললেন, ‘আপনি কি এখনো তাকে বয়ে চলছেন?’

উপদেশকথা

❑ 

বুদ্ধ এক সূত্রে এক উপদেশকথা শুনিয়েছিলেন:
একদিন এক লোক এক মাঠ পার হতে গিয়ে এক বাঘের মুখে পড়ল। লোকটি পালাল, বাঘ তার পেছনে। পাহাড়ের এক খাড়াইয়ে এসে লোকটি এক আঙুর লতা পেল। সেই লতা ধরে সে খাদের দিকে ঝুলে পড়ল। ওপর থেকে বাঘটা তাকে শুঁকতে চেষ্টা করছিল। লোকটি ভয়ে নীচে তাকাতেই দেখল, অনেক নীচে আরেকটা বাঘ তার জন্য অপেক্ষা করছে। কেবল আঙুর লতাটা তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
দুটি ইঁদুর। একটি সাদা। আরেকটি কালো। ধীরে ধীরে আঙুর লতাটা কাটছে। লোকটি কাছেই একটি টসটসে জাম দেখতে পেল। একহাতে আঙুর লতা আঁকড়ে থেকে অন্য হাতে জামটা পাড়ল। কী মিষ্টি যে লাগলো জামটা!

প্রচ্ছদ  ◘ রাজিব রায়

Berger Weather Coat