পড়তে পারবেন 2 মিনিটে Samsungtv

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় রেমডেসিভির-এর কার্যকারিতা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড-এর তৈরি এ ওষুধটি ট্রাম্প প্রশাসন এতো বেশি পরিমাণে কিনেছে যে, আগামী তিন মাসের জন্য এর আর কোনও স্টক অবশিষ্ট নেই। ফলে এ সময়ের মধ্যে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর আর এ ওষুধ কেনার সুযোগ থাকছে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্যও না। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন একতরফা পদক্ষেপে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে করোনা টিকার সহজলভ্যতার ক্ষেত্রেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরবরাহ নিরাপদ করতে তারা অন্য সব দেশকে উপেক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, রেমডেসিভির-এর পেটেন্টের মালিকানা শুধু গিলিয়াড সায়ন্সেস-এর। অর্থাৎ কেবল তাদেরই এই ওষুধ তৈরির অধিকার রয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় নাম থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি অনুযায়ী এই ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে ওই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের ওপর প্রযোজ্য হবে না। ফলে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে রেমডেসিভির তৈরির অনুমোদন দিয়েছে।

বাংলাদেশে ছয়টি প্রতিষ্ঠান এই ওষুধ উৎপাদন করছে। এদের মধ্যে বেক্সিমকো এগিয়ে রয়েছে। গত ২১ মে নিজেদের উৎপাদিত এক হাজার রেমডেসিভির ইনজেকশন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে তুলে দেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন। বেক্সিমকো উৎপাদিত ইনজেকশনটির নাম বেমসিভির।

লিভারপুল ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো ড. অ্যান্ড্রু হিল। তিনি বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বেশিরভাগ ওষুধের (রেমডেসিভির) সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। ফলে ইউরোপের জন্য আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া প্রথম ওষুধ এই রেমডেসিভির। এটি উৎপাদন করছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক বায়োটেক প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড। এই ওষুধের মাধ্যমে লোকজনের করোনাভাইরাস থেকে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে সুস্থ হওয়ার নজির রয়েছে।

রেমডেসিভির-এর কার্যকারিতা নির্ণয়ে এর প্রথম এক লাখ ৪০ হাজার ডোজ বিশ্বব্যাপী ট্রায়ালের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এখন রেমডেসিভির-এর পাঁচ লক্ষাধিক ডোজ অগ্রিম কিনে নিয়েছে। এটি গিলিয়াড-এর জুলাই মাসের শতভাগ উৎপাদন এবং আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মোট উৎপাদনের ৯০ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স আজার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকানদের জন্য করোনার প্রথম অনুমোদিত থেরাপিউটিকের সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে একটি দুর্দান্ত চুক্তি করেছেন।

তিনি বলেন, যে কোনও আমেরিকান রোগীর রেমডেসিভির প্রয়োজন হলেই যেন সে এটা পায়। আমরা আমাদের সাধ্যমতো এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই। আমেরিকান জনগণের জন্য করোনায় জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিতে ট্রাম্প প্রশাসন তার সাধ্যমতো সবকিছু করছে।

রেমডেসিভির ওষুধটি উদ্ভাবন করা হয়েছিল মূলত ইবোলা ভাইরাসের আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য। তবে সে লক্ষ্য পূরণে সফল হয়নি এটি। এখন করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা দেখা গেলেও বিশ্বের অন্য ধনী দেশগুলোর কোনও প্রতিষ্ঠান এ ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না। কেননা, এর পেটেন্ট ‘গিলিয়াড’-এর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। মার্কিন সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা চিকিৎসায় রেমডেসিভির-এর ছয়টি ডোজের পেছনে খরচ পড়বে প্রায় তিন হাজার ২০০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় দুই লাখ ৭১ হাজার ১৪১ টাকা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় একটি নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়ার ওপর নির্ভর করতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র। তার আশঙ্কা, আমেরিকানরা যদি ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তাহলে দৈনিক নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ পর্যন্ত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজ-এর প্রধান ড. অ্যান্থনি দেশটির একটি সিনেট কমিটিকে বলেছেন, এই দেশে সবার জন্য একটি নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মহামারি শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে দ্রুত গতিতে গবেষণা ও পরীক্ষা চলছে। বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষা চালানোর ধাপে পৌঁছেছে। তবে ড. ফাউচি সতর্কতা জানিয়ে বলছেন, আমরা নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন পেয়ে যাব তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে তিনি মার্কিন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার আশঙ্কা, জনগণ যদি সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরার নির্দেশনা মেনে না চলেন তাহলে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে ১ লাখে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, আমি খুব উদ্বিগ্ন কারণ পরিস্থিতি খুবই খারাপ হতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি।

Berger Weather Coat