মেঘ করে আসে ঘাসে

❑ 

পাতা দুলে ওঠে বাতাসে কাঁপন লাগে
ঝিম ধরা রোদে মেঘের পূর্বাভাস
মেঘ করে আসে বিকেল আঁধার করে
ভিজে যাওয়া সুখে মাঠের দুর্বাঘাস

আকাশও আজকে অনেক দিনের পরে
অঝোর ধারায় ঝরালো মেঘের দানা
ভিজে যাওয়া মাটি নিখাদ জলের সুরে
আকাশের সাথে চিরচেনা জানাশোনা

ওদিকে মানুষ আত্মের রক্ষায়
সব ভুলে আজ দেহচর্চায় রত
এত দিন ধরে দূষণের জঞ্জালে
পৃথিবীর মুখে এঁকেছে কেবল ক্ষত

শোনে নি মানুষ অন্য প্রাণের কথা
বাতাসে বুনেছে কত বিষাক্ত চাপ
বোঝে নি মানুষ সাগরের গভীরতা
হজম করেছে সভ্যতা-সন্তাপ

আজ দেখো চেয়ে মানুষের অগোচরে
শান্তির ঢেউ চরাচরজুড়ে বয়
রেলিংয়ের গায়ে বৃষ্টির ফোটা জমে
হীরে নয় তবু এ ফোটা হিরন্ময়

ইতিহাস দেখো বার বার ফিরে আসে
মহামারী রূপে মৃত্যুর শামিয়ানা
মানুষ তথাপি ভুলে যায় রীতিনীতি
বিরূদ্ধ পথে অবিরত দাঁড় টানা

পৃথিবী নেবে, ফেলে দেবে না

❑ 

মাটি আমাকে ঠিকই নেবে
মানুষ নেবে না
আগুন তোমাকে নেবে
তবু মানুষ নেবে না
আমার কবরে ঝরে পড়বে বৃষ্টির ফোটা
তোমারো শ্মশানে বাতাস যোগাবে তাপ
মানুষের অশ্রুজল ঝরবে না
ভয় পেয়ো না মৃতদেহরা
পৃথিবী আমাদের নিয়ে ফেলে দেবে না
আমাদের আত্মাগুলো
ছড়িয়ে থাকবে রৌদ্রজ্জ্বল মাঠে
আকাশের সীমাহীন মেঘের আলয়ে
নীল জলোরাশির বুদ্বুদের হিল্লোলে
চাঁদের ইস্পাত আলোর থিক থিক করা জোস্নায়
শরতের ঘাসে শিশিরের আর্দ্রতায়
বৃষ্টির ফোটায় জমে থাকা হীরকের দ্যুতি হয়ে
আমরা জেগে থাকবো পৃথিবীর আদিগন্ত বাতাসেরে ছুঁয়ে
চিরশান্তি ঘুম আর জাগরণ একাকার করে

আফলের গান

❑ 

সারারাত শোনা যায় বাতাসের ডাক
সাপের মতন তার হিঁসহিঁস বাঁক

এমন বাতাস আসে আফলের দিনে
সবকিছু গিলে খাবে এই শুধু জানে

উড়ে যায় খড়কুটা উড়ে যায় চাল
গুঁড়ি নিয়ে গাছ পড়ে পথের বেহাল

এমন মরণ আসে বাতাসের তোড়ে
মৃতদেহ স্তূপ হয় ঝড় শেষে ভোরে

পাশের দেশের শোকে ভারী হয় মন
বিষাক্ত বাতাসের এমনই কাঁদন

আমাদের নদীভাঙা প্রতিবার আসে
জলের গভীরে মাটি ডুবে যায় ত্রাসে

সমুদ্র ফুলেফেঁপে ধেয়ে আসে তীরে
বিপদের সঙ্কেত জলের গভীরে

এবারেও ঝড়োজলে সুন্দরবন
দাঁড়ায় ঝড়ের রাতে মায়ের মতোন

ডানা মেলে আগলায় বাতাসের গতি
আগলায় আম্ফান বড় ক্ষয়ক্ষতি

[আফল একটি আঞ্চলিক শব্দ যার অর্থ প্রচণ্ড ঝড়]

প্রচ্ছদ  ◘ রাজিব রায়

Berger Weather Coat