পড়তে পারবেন 3 মিনিটে Berger Weather Coat

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে মুজিববর্ষের কর্মসূচির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এ বছর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের কর্মসূচি সীমিত করেছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে জনসমাগম হবে এ ধরনের সব কর্মসূচি জনগণের কল্যাণে বাতিল করেছি। কারণ আমাদের কাছে জনগণের কল্যাণটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এটাকেই আমরা গুরুত্ব দিই।’

আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অন্যান্য বছরগুলোতে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলটি তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে থাকলেও এবার করোনা পরিস্থিতিতে তা সীমিত করা হয়েছে।

সংসদে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাস বর্ণনা করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের কথা, মানুষের অধিকারের কথা বলেছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে গেছে। পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে বাঙালি কিছু পেয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। এছাড়া অন্য সময় পেছনে টেনে রাখার চেষ্টা হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়, আওয়ামী লীগের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সেই সূর্য উদয় হয় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ অস্ত্র তুলে নিয়েছিল। যুদ্ধ করে ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করি। জাতির পিতা আজীবন সংগ্রাম করেছেন এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, জনগণের জন্য। তিনি তার সংগ্রামের পথে অনেক বাধা-বিপদ অতিক্রম করেছেন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানবতার সেবা করে গেছে। জনগণের সেবা করে গেছে। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কথাই বলেছে। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছে। আর এই সংগ্রামের পথে অগণিত নেতা-কর্মী জীবন দিয়েছেন। তাদের ত্যাগ-তিতীক্ষায় আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজকে আমরা একটা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, জাতির পিতা যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, দেশ গড়ে তুলে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন সেই সময় আরেক মীর জাফর খন্দকার মোস্তাক এবং জিয়ার কুচক্রান্তে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়ে গেলো।’

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালনের পকিল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করি। এটা নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য তা পালন করতে পারিনি। আজকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সীমিত আকারে উৎযাপন করছি। জনসমাগম হবে এ ধরনের সব কর্মসূচি বাতিল করেছি জনগণের কল্যাণে। কারণ আমাদের কাছে জনগণের কল্যাণটাই হলো সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এটাকেই আমরা গুরুত্ব দিই।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে করোনাভাইরাসের কারণেই এই সমস্যাটার সৃষ্টি হয়েছে। এই করনোভাইরাস সারা বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা। এর থেকে মানুষকে রক্ষা করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, মানুষ যাতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রেখেই মুজিববর্ষ উৎযাপনের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছি। আজকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিশেষভাবে উদযাপনের কথা ছিল, সেটাও করতে পারলাম না।’

জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এক সময় তাকে ইতিহাস থেকে ‍মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু পারেনি। অবশ্য সত্যকে মোছাও যায় না। জাতির পিতা শারীরিকভাবে আমাদের কাছে নেই। তার অস্তিত্ব বাঙালির হৃদয়ে আছে। তার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সেটা আমাদের পূরণ করতে হবে। আজকের দিনে আমাদের এটাই শিক্ষা, বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবো।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু আইয়ুব খানের সব রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে দিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন ও ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে দেশের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু তা সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। তার অসমাপ্ত কাজটা শেষ করা আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

জনগণের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের মাঝে দুঃখকষ্ট আছে। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ-কৃষকলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছানো ও লাশ দাফন থেকে শুরু করে সব কাজে মানুষের পাশে আছেন। এলাকাভিত্তিক তারা কাজ করে যাচ্ছেন। ঘূর্ণিঝড়ের সময়ও তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। এইভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবো। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’