অক্ষমতা

তোমার ভিতর একটু একটু করে ঢুকেছি
পরখ করেছি শেকড়ের অন্ধকার

গ্রহের অন্যত্র ফোটা ফুল কত রং নিয়ে
ছড়িয়েছে মায়াবেষ্টনি, হিজলের আয়ু
অনন্ত কৌতূহলে চাপা পড়ে আছে

ঘুমের সরলনদী পার হতে পারে কেউ কেউ
বাকিরা গভীর অন্ধকার চিনে যায়—
দেখে ফেলে দুঃস্বপ্নের ফেঁপেওঠা কেশর

সব সম্ভাষণ দূরে ঠেলে মাছির আয়ুর লোভে জেগে উঠতে উঠতে
কারো পায়ের পাতাদ্বয় ক্ষয়ে যায়

তারা আর দাঁড়াতে পারে না সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্তের আগে…

কাঁটা

শরীর তোমার দিকে ফিরে
দেখছে মরিচফুল

ধানের মুখের মতো তীক্ষ্ণ
দৃষ্টির কাঁটায় গেঁথে বহুকাল—
নড়ি না চড়ি না

ত্বক থেকে হাড় অব্দি দেবে যাচ্ছে
হন্তারক কাঁটা
এবার তুমিও যদি খ্যাপা হও, জমে থাকো!
এই অসম্ভবে, বয়সের স্তিমিত তরঙ্গে
যদি আটকে থাকো আমাতে!

আমি তো পাথর হয়ে যাব। নড়ব না চড়ব না

অলক্ষ্যে

বহু দিন পেরিয়ে গেছে আমাদের দেখা না-হওয়ার
বহুকাল মেলামেশা থেকে দূরে
আমরা একা একা, গোপনেই ভালোবেসে বাঁচি
রাতদিন যেমন আসে, আসে—
আমরা ওদিকে ফিরেও তাকাই না
আমাদের বাজার-সদাই, রান্নাবান্নার ভিতর জমে ওঠে শ্যাওলার নৃত্যকেতন
দারিদ্র্য ও গরিমা বেয়ে উঠে যাচ্ছে আকাশপন্থী অহংকার

এমন তো নয়, আমরা দেখতে চাই না পরস্পরের মুখ
দেখতে চাই না মুখের বলিরেখা
আমরা তো বন্ধুদের অলক্ষ্যে তা গুণে রাখি, খুব চুপিচুপি

আমাদের মর্মজুড়ে চর্চিত বেদনার দাগ
যার চিহ্ন ধরে চলে গেছে প্রতিবেশি গরীবের মেয়ে– প্রেমিকের হাত ধরে, দুপুর পালিয়ে।

প্রচ্ছদ ◘ রাজিব রায়

Berger Weather Coat