পড়তে পারবেন 2 মিনিটে Berger Weather Coat

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

দেশে তরুণ ও যুবকদের করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে। তবে মৃত্যুর হার বেশি ষাটোর্ধ্বদের। নমুনা পরীক্ষা করা, ধূমপান, নিয়ম না মানার প্রবণতা, উপাজর্নক্ষম ব্যক্তি, লেখাপড়াসহ নানা কারণে তরুণদের বাইরে যেতে হয় বলে ২১-৪০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার বেশি বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া নারী-পুরুষ বিবেচনায় করোনা রোগীদের ২৯ শতাংশ নারী এবং ৭১ শতাংশ পুরুষ। ঢাকার অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

গত ২৩ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদফতর বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়,  দেশে মোট আক্রান্তের ১০ শতাংশ ষাটোর্ধ্ব। ১৫ শতাংশ ৫১-৬০ বছর বয়সী, ১৮ শতাংশ ৪১-৫০ বছর বয়সী, ২২ শতাংশ ৩১-৪০ বছর, ২৪ শতাংশ ২১-৩০ বছর বয়সী এবং ১১-২০ বছর বয়সী আট শতাংশ। এছাড়া ১০ ও দশের নিচেও আক্রান্তের হার তিন শতাংশ।

প্রায় দেড় মাস পর ৬ জুন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, দেশে করোনাতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ২১-৩০ বছর বয়সীরা। তারপরেই রয়েছেন ৩১-৪০ বছর বয়সীরা। এপ্রিলে ২১-৩০ বছর বয়সীদের হার ২৪ শতাংশ থাকলেও এখন সেটা বেড়ে হয়েছে ২৮ শতাংশ। এপ্রিলে ৩১-৪০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৭ শতাংশ হয়েছে।

একই সময়ে ৪১-৫০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার ১৮ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে সেটা ১৭ শতাংশ। ৫১-৬০ বছরের বয়সীদের আক্রান্তের হার এপ্রিলে ১৫ শতাংশ ছিল, চলতি মাসে সেটা হয়েছে ১১ শতাংশ, ১১-২০ বছর বয়সীদের হার এপ্রিলে ছিল ৮ শতাংশ, যেটা এখন ৭ শতাংশ। আবার এপ্রিলে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স তাদের আক্রান্তের হার ১০ শতাংশ হলেও এখন সেটা কমে হয়েছে ৭ শতাংশ। আর এক থেকে ১০ বছরের শিশুদের আক্রান্তের হার তিন শতাংশই রয়ে গেছে।

তরুণ ও যুবকদের সচেতনতা ও সতর্কতা থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তার মতে, তারা কর্মস্থলে বেশি থাকেন। ফলে তাদের বাইরে বেশি বের হতে হয়।

তিনি বলেন, ‘কাজ কিংবা বয়স যে কারণেই হোক, তরুণরা সচেতনতা বা সতর্কতা ঠিকভাবে গ্রহণ করেন না। এজন্য ২১-৩০ এবং ৩১-৪০ বছর বয়সীদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। আপনাদের কারণে পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।’

তরুণরা নিয়ম মানছে না মন্তব্য করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. রিদওয়ানুর রহমান বলেন, ‘তরুণরা মাস্ক পরছেন না, সামাজিক দূরত্ব মানছে না, নিয়মিত হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। বিশেষ করে সামাজিক দূরত্ব একেবারেই মানছেন না।’

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশে কম বয়সীদের মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও আমাদের দেশে তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ এই বয়সের রোগী বেশি। তবে এই চিত্র প্রকৃত চিত্র নয়। এইটা কোনও রিপ্রেজেন্টেটিভ স্যাম্পল নয়। কষ্ট করে লাইন ধরে নমুনা দিতে পারার তালিকাতে তরুণদের সংখ্যা বেশি, বৃদ্ধদের নয়। তাই রোগী শনাক্তে তাদের হার বেশি, কিন্তু এই এই তালিকা কমিউনিটিতে কী হচ্ছে সেটা প্রকাশ করে না।’

আইইডিসিআর’র উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘তরুণরা পেশাগতসহ নানা কারণে বাইরে যেতে হয়। কিন্তু সিনিয়র সিটিজেনদের খুব একটা বের হতে হয় না।’

কম বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি কেন জানতে চাইলে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সুশৃঙ্খল জীবন যাপন না করাই এর প্রধান কারণ বলে আমি মনে করি। তারা সামাজিক দূরত্ব মানে না, রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দেয়, কারও মুখে মাস্ক থাকে না, মাস্ক থাকলেও সেটা খুলে ফোন কথা বলছে, ধূমপান করছে, বাসায় ফিরে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। যার কারণে তরুণ-যুবকদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। তবে বিপদ হচ্ছে তরুণদের বোঝা উচিত তাদের কারণে ঘরে বৃদ্ধরা যারা আগে থেকেই অন্য রোগে আক্রান্ত তারা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। তরুণরা আক্রান্ত হলে হয়তো সারভাইভ করে যায়, কিন্তু বৃদ্ধদের সে সুযোগ নেই।’