বৈদ্যুতিক শালবন

এই-যে দেখছেন শালগাছের বৈদ্যুটিক খুঁটি, রোপন করা আছে রাস্তা/ঘরের পাশেই, এর গোঁড়ায় নিয়মিত পানি অথবা রাসায়নিক সার দিলে বিদ্যুতের ফলন পাবেন ভালো। আলোর জন্য বাল্বে বাল্বে পৌঁছে যাবে বৈদ্যুতিক জ্বালানি। এবং ফ্যানের নিঃশ্বাস থেকে উৎপন্ন হবে অক্সিজেন। শহরজুড়ে অসংখ্য শালগাছ নিয়ে যে শালবন, ঘরে বসেই পাওয়া যাবে তার সুবিধা। এবং ডাইনিং রুমে বসেই সারা যাবে বনভোজন। কল ছেড়ে তালের রস পাবেন অবশ্যই, যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঘরের পাশের খুঁটিটি তালগাছের দিতে পারেন।

আমি দিয়েছি ধানগাছের—কুকার সংযোগ দিতেই ভরে ওঠে ভাতে।

ট্রাফিক সিগন্যাল

পৃথিবীতে যখন ট্রাফিক সিগন্যাল আবিষ্কার হলো, তখন হঠাৎ করেই আমার লাল রঙের নতুন গাড়িটা হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। বহু চেষ্টা করেও তাকে আর হাঁটানো গেলো না। মনে হলো কোথাও তার বড় অসুখ বেঁধেছে, বেদনা জমে আছে। অথচ এক্স-রে করে দেখি গাড়ির কোথাও কোনো ত্রুটি নেই, অসুখ নেই। শিশুদের সুস্থতা নিয়ে বসে আছে নিশ্চল। চাকাগুলোও জল-পরীক্ষা করে দেখেছি—দৌড়াতে কোনো আপত্তি নেই তাদের। তবুও এক পা-ও নড়ে না গাড়ি, কার যেন অপেক্ষা করছে বসে।

গাড়ি থেকে লাল রঙ সরিয়ে সবুজ করতেই দেখি গাড়ি চলে স্বাভাবিক।

পাহারাদারের বাঁশি

পাহারাদার যখন বাঁশি বাজিয়ে হুঁশিয়ার করে, চোরাগুপ্তায় চুরি করে গজিয়ে ওঠা সমস্ত আগাছা তখন তটস্ত হয়ে ওঠে আতঙ্কে। নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান হয়ে ওঠে—যেন চুরি করে বেঁচে আছে তারা। পাহারাদারের বাঁশির সুর যেন আগাছা-নাশক—বিষক্রিয়ায় অস্থির হয়ে ওঠে আগাছা আর চোরের মতো ছুটে পালাতে ছটফট করে। আমিও দেখি আগাছার মত, বাঁশির সুর পেলেই অস্থির হয়ে উঠি, পালাতে ছুটাছুটি করি অজান্তে। আর লোকজন আমাকে দেখে চোর ভাবতে থাকে অনায়াসে।

চোর হয়ে থাকতে চাই না বলে এখন নিয়মিত পাহারাদারের বাঁশি চুরি করি।

চারদিকে অন্ধকার

যেখানেই অন্ধকারের দুর্গন্ধ দুর্গন্ধ ভাব দেখা যায়, আলোর পারফিউম ছিটিয়ে দিলেই দুর্গন্ধ কেটে যায়। আসলে আলো এক ধরনের কীটনাশক, অন্ধকারে স্প্রে করলেই কালো কালো নীরব পোকাসব মরে যায়। অথবা আলো ডিটারজেন্ট পাউডার, অন্ধকারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিলেই ধুয়েমুছে সব সাফ হয়ে যায়। লোকজন তাই অলিতে-গলিতে কোণা-কাঞ্চিতে খুঁজে খুঁজে যেখানেই অন্ধকার পায় আলো ছিটিয়ে দেয়। এমনকি যাদের ভেতর অন্ধকার সন্দেহ হয়, গ্লাসে গ্লাসে আলো পান করে আলোকিত হয়ে যায়। একসময় পৃথিবীর সকল কালোই আলো মেখে ফর্সা হয়ে যায়। সর্বত্রই দিন, রাত নিহত। সব ফকফকা দেখা যায়, কোথাও কোনো অন্ধকার নেই। কিন্তু সমস্যাটা হলো, আমাদের দৃষ্টির বাইরে যেখানটা দেখা যায় না, সেটাও এক ধরনের অন্ধকার। আপনার দৃষ্টির বাইরে আমি আসলে অন্ধকারেই আছি অথবা আমার দৃষ্টির বাইরে আপনি।

বগলের পাশ দিয়ে অগোচরে চলে যাওয়া লোকটিও তো দৃষ্টির বাইরেই।

প্রচ্ছদ ◘ রাজিব রায়

Berger Weather Coat