সবুজ রাত্রির দেহে অনিদ্রা অর্জন

.

বিশাল বিশাল রাত সময় ঝেটিয়ে বয়ে যাচ্ছে

এদিকে অজানা রোদ দ্রুত খেয়ে ফেলছে আমাকে।

এতো কি হেঁটেছি তবে অনিচ্ছুক সাধের ভেতর?

.

একবার আমন্ত্রণ—এসো কিছুকাল শুধু ভাবো—

আকাশে কৃত্তিকা দ্যাখো, অশ্বিনীর চারপাশে সব

নক্ষত্রপুঞ্জের সারি চাঁদ ঝলসানো রাতে যেন

হলুদাভ উটপাখি অথবা দোয়েল মনে হবে।

.

আর যদি সরে গিয়ে একটা গাছের নিচে বসো

করোটির মাঝখানে সহজে গজাবে সন্ধ্যাবেলা,

কিংবা হিমের মতন সাদা-ছোপছোপ আবছায়া—

কোনোকিছুর ভেতরে কিছুকাল কামাই ঢুকলে

দূরত্ব বাড়ার মতো, চোখের শরীরে গেঁথে যাবে

মৃতদের ছায়া নিয়ে দাবা খেলার অনেক দৃশ্য।

.

এসো কিছুকাল ভাবো—’ইতিহাস বাঁচাবে আমাকে’

এ-কথা কেবল ভুলে, সব গভীর চিহ্নের মতো

সবুজ রাত্রির দেহে, দীর্ঘ অনিদ্রা অর্জন করো।

.

তুমি কিংবা প্রেম—আমরা যেমন জানি

.

গভীর একাকি দেহে পড়ে আছি বহু-বহুদিন

কেবল ঘুমের মধ্যে ক্রমশ নির্ভেদ রাত হয়ে

সৌরভ ফোটাও তুমি—ভালো কোনো পাখির মতন

তরল কণ্ঠের ছায়া, সময়হীন ছড়িয়ে পড়ে।

.

রূপ কেবল বিভ্রান্তি—কখনো ফুলের মতো নড়ে।

তবু ভালোবাসা-স্বাদ সমুদ্রের ভাষার মতন

ফর্সা ফেনায় মৌচাক। অনাবৃষ্টির বনভূমিতে

কুসুমিত বর্ষা এলে, দেরিতে মহুয়া ফোটে যেন।

.

পাতা তো কতই ঝরে—গোলাপের অতিমৃদু ভাঁজ

গোলাপেই শুধু থাকে। তবু স্বপ্ন দেখার লাবণ্যে

হুড়মুড় করে যেন অনিচ্ছুক ছায়ার মতন

কর্পূরের মিহি শব্দে আমাদের রাত্রি উড়ে যায়।

.

বিনিময় ছাড়া ম্লান হয়ে

.

আমাদের যা-কিছু অর্জন সেসবের বেশিভাগ—অতীতের মতো খোসাহীন

কিংবা মাছেদের চোখে জলের অভাব যেন।

আগেকার সব দৃশ্য নির্লজ্জের মতো আমাদের আবর্তন করে—

তবুও ভবিষ্যৎ সারাকাল আলো মরে গিয়ে নীল অন্ধকারে

ঝকঝকে কোনো আওয়াজে মৃদু দৃশ্যমান।

.

অনেক চেয়েছি ভুলে যেতে—শারীরিক কিংবা ভাবনায়—

তবু স্মৃতি শুয়ে থাকে মগজের এককোণে—বৃষ্টি যেভাবে নিঃশব্দে খুন করে আমাদের,

ঠিক সেরকম ফ্রিস্টাইলে তোমাকে গহিন ভেবে, ভালোবাসা আর প্রলোভনে

শত্রু হয়েছি নিজের—কার সাথে রাত থাকা যায়—বিনিময় ছাড়া ম্লান হয়ে

দাবানলে জ্বলে নিকোনা হৃদয়—সেসবের ইতিহাস প্রেমে পড়ে বহু আগে স্নিগ্ধ হয়ে গেছে।

এখন দরজা থেকে দূরে হেঁটে গিয়ে দেখি:

স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের পর কিছু চাঁদ জ্বলে আছে।

.

প্রচ্ছদ ◘ রাজিব রায়