।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

করোনাভাইরাস লকডাউনের মধ্যে হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় বাসের নিচে চাপা পড়ে ভারতে ছয় শ্রমিক নিহত হয়েছে। বুধবার রাতে উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর জেলায় একটি বাস তাদের চাপা দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অপর দুই শ্রমিক আহত হয়েছে। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশ সরকার যেকোনও মূল্যে শ্রমিকদের পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরা ঠেকানোর নির্দেশনা দেয়ার দিনেই এই বাস চাপার ঘটনা ঘটেছে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকোতে মার্চের শেষ দিকে আকস্মিকভাবে লকডাউন ঘোষণার পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আটকা পড়ে লাখ লাখ শ্রমিক। তাদের অনেকেই পায়ে হেঁটে, সাইকেলে বা ট্রাকে চড়ে শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে নিজ নিজ বাড়ি পৌঁছানোর চেষ্টা করে। অনেকেই রাস্তাতেই মারা যায়। সম্প্রতি আটকা পড়া শ্রমিকদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উত্তর প্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, মুজাফফরনগর বাস চাপায় নিহত শ্রমিকেরা পাঞ্জাব থেকে হেঁটে বিহারে নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলো। নিহতদের মধ্যে চার জন গোপালগুঞ্জ এবং এক জন করে পাটনা ও ভোজপুরের বাসিন্দা। খালি বাসটি আটক করা হলেও চালক পালিয়েছে।

মোবাইল ফোনে ধারণ করা ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘তারা (শ্রমিকেরা) হাঁটছিলো। চার-পাঁচ জন মারা গেছে। দুই-তিন জন বেঁচে থাকতে পারে।’ ভিডিওতে দেখা গেছে, অন্ধকারের মধ্যে রাস্তায় মরদেহ পড়ে রয়েছে। আহত এক শ্রমিককে হতভম্ব অবস্থা থেকে ফেরানোর চেষ্টা করতেও দেখা গেছে এক ব্যক্তিকে।

বুধবার উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকারের এক নির্দেশনায় যে কোনও মূল্যে শ্রমিকদের পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরা ঠেকানোর নির্দেশ দেয়া হয়। আর ওই নির্দেশনার পর রাতেই বাস চাপায় শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটে। এর আগে গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের রেল লাইনে ঘুমিয়ে থাকা শ্রমিকদের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া ট্রেনের চাপায় অন্তত ১৬ শ্রমিক নিহত হয়।

উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘প্রথমে ট্রেন আর এখন বাস দুর্ঘটনা, শ্রমিকদের জীবন এতো সস্তা কেন? এই দেশের গরিবরা কি বন্দে ভারত মিশনের অংশ না? মাটির সত্যকে অবহেলা করে আকাশে ওড়া ঠিক না।’