।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ লাখ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ সময় ১৩ মে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৭টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৫। এর মধ্যে দুই লাখ ৯১ হাজার ৮৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮৬। মৃত্যু হয়েছে ৮২ হাজার ৩৩৯ জনের। মৃতের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৩২ হাজার ৭৬৯। আর আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৭৪১ জন।

মৃতের হিসাবে তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার ৯১১। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ২১ হাজার ২১৬। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার ৯৯৪। আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৭৮ হাজার ৩৪৯। পঞ্চম স্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার ৯২০। আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ২৮ হাজার ৩০।

আক্রান্তের হিসাবে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৩২ হাজার ২৪৩। এর মধ্যে দুই হাজার ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উৎপত্তিস্থল চীনে মৃতের সংখ্যা চার হাজার ৬৩৭। যদিও দেশটির বিরুদ্ধে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করার অভিযোগ রয়েছে। উহানের একজন স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘বুদ্ধি-বিবেচনাসম্পন্ন যেকোনও মানুষ এই সংখ্যা (সরকারি পরিসংখ্যান) নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবেন।’ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিসে পেইনি বলেছেন, করোনা নিয়ে চীনের স্বচ্ছতার বিষয়টি সর্বোচ্চ উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।

করোনা মহামারির ফলে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে আফ্রিকাসহ বেশ কিছু স্বল্পোন্নত দেশ। বিভিন্ন দেশে লকডাউন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ফলে ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এ শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৭-০৮ সালের দিকে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে যে ধরনের সহিংস পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বিশ্ব চাইলে আসন্ন এ সংকট ঠেকাতে পারে, তবে তা করার সময় ফুরিয়ে আসছে। খুব দ্রুতই সম্মিলিতভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।