।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

পশ্চিমবঙ্গে ক্রমশই বাড়ছে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ। আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। সংক্রমণ ঠেকাতে গোটা ভারতের সাথে পশ্চিমবঙ্গেও জারি রয়েছে লকডাউন। করোনাভাইরাস ও লকডাউনের আবহে বন্ধ রয়েছে বাঙালির নানা উৎসব ও পার্বন।

আগামী কয়েকদিন পরেই মুসলিমদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ। কিন্তু মারণ এই ভাইরাস সেই আনন্দেও ভাটা ফেলেছে। ঈদের কেনা-কাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় সবই বন্ধ। এমন অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে বড় মনের পরিচয় দিল সেখানকার মুসলিমরা। তাদের অভিমত আগে মানুষ বাঁচুক, পরে উৎসব।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে রাজ্যে লকডাউনের সময়সীমা আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন রাজ্যটির ইমামারা। এই মর্মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জিকে চিঠি দিয়েছে বেঙ্গল ইমাম অ্যাসোসিয়েশন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার তৃতীয় পর্যায়ের লকডাউন আগামী ১৭ মে’এর পর প্রত্যাহার করে নিলেও পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার যেন লকডাউন প্রত্যাহার না করে।

বেঙ্গল ইমামস অ্যাসোসিয়েশন’র চেয়ারম্যান মো. ইয়াহিয়ার স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে আবেদন জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার আগামী ১৭ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষনা করেছে, রাজ্য সরকার তা বাড়িয়ে ২১ মে পর্যন্ত করেছে। আগামী ২৫ সোমবার তারিখে পবিত্র‘ঈদ-উল-ফিতর’। হয়তো সেটাকে মাথায় রেখে সরকার লকডাউন শিথিল করার কথা ভাবতে পারে। কিন্তু আমরা বেঙ্গল ইমামস অ্যাসোসিয়েশন’র তরফে আপনার (মমতা ব্যনার্জি) কাছে অনুরোধ করছি রাজ্যের স্বার্থে লকডাউন আরও কয়েকদিন বাড়িয়ে দিন। অন্তত ৩০ তারিখ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিন। মানুষ আগে বাঁচুক, পরে উৎসব। আমরা নিজেদেরকে এত উৎসর্গ করছি, প্রয়োজনে আরও করবো। আমাদের উৎসবের দরকার নেই।

ওই চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে, ৩০ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানো হোক। আপনার কাছে অত্যন্ত জোড়ের সাথে আবেদন এই যে, কেন্দ্র সরকার কোন অবস্থাতেই ৩০ মে’র আগে লকডাউন তুললেও রাজ্য সরকার যেন না তোলে। কেন্দ্র সরকারের কাছেও আপনি এই দাবি তুলুন। মুসলিম নেতৃবৃন্দ দায়িত্বের সাথে আপনার সরকারের পাশে আছে।

তবে ইমামদের এই আবেদন নিয়ে রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোন বিবৃতি আসে নি। যদিও রাজ্যেরই এক মন্ত্রী জানিয়েছেন ‘মুখ্যমন্ত্রীই সকল বিষয় খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

উল্লেখ্য, চলমান করোনার আবহেই গত ২৬ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, তারা যেন দোয়া করে যে, ঈদের আগেই গোটা বিশ্ব যেন করোনা মুক্ত হয়।