।। বিডিনিউজ, ঢাকা ।।

জীবনযাপনের জন্য কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করার ইংগিত দিলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত কোনো স্কুল-কলেজ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে না।

সোমবার সকালে গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর বিস্তার কমলে তখনই সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ভাববে।

কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তোলার আভাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেহেতু এখন কিছু কিছু ফসল উঠছে, এরপর ফসল লাগাতে হবে। কিছু কিছু জীবন যাপন আমাদের আস্তে আস্তে উন্মুক্ত করতে হবে। সেখানেও সবাই নিজেকে সুরক্ষিত রেখেই কাজ করবেন, সেটাই আমরা অনুরোধ করব।

এর পরপরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, “স্কুল এখন আমরা খুলব না। স্কুল কেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটাও খুলব না।

“সেটা আমরা কখন খুলব? অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্কুল কলেজ সবই বন্ধ থাকবে যদি না করোনাভাইরাস তখনও অব্যাহত থাকে । যখন এটা থামবে আমরা তখনই খুলব। বেশি সমাগম যেন না হয়।”

করোনাভাইসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় গত ১৭ মার্চ দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এরপর ২৬ মার্চ থেকে সব অফিস আদালত ও যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে সবাইকে যার যার বাড়িতে থাকতে বলা হয়।

সরকারি ভাষায় সেই ‘সাধারণ ছুটির’ মেয়াদ ৫ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে আদেশ জারি হয় গত ২৩ এপ্রিল। সেইসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটিও একই সময় পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

গত ১ এপ্রিল থেকে নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত হয়ে আছে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে। তার আগে হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশও আটকে আছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টানা বন্ধ থাকায় পাঠদানের ধারাবাহিকতা রাখতে ২৯ মার্চ থেকে সংসদ টিভিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ক্লাস দেখানো শুরু করে সরকার। আর প্রাথমিকের ক্লাস শুরু হয় গত ৭ এপ্রিল থেকে।

এই ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ দেয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে এসব বাড়ির কাজ দেখাতে হবে। মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজের উপর প্রাপ্ত নম্বর তাদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।