।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

রাজশাহীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত করতে আরেকটি রিয়েল টাইম পলিমারি চেইন রিঅ্যাকশন (আরটিপিসিআর বা পিসিআর) মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগ প্যাথলজি ল্যাবে এই মেশিন বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।

রোববার সকালে তিনি রামেক হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা প্রস্তুতির কাজ পরিদর্শন করেন। এরপর হাসপাতালে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এরই মধ্যে দ্বিতীয় পিসিআর মেশিনটি চলে এসেছে। বাদশা জানান, দুয়েকদিনের মধ্যে এটি স্থাপনের কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, নতুন মেশিনে নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নির্বাচন করে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, আমাদের হাসপাতালের আউটডোরের প্যাথলজি বিভাগে আমরা এই পিসিআর মেশিনটি বসাবো। সে জন্য আগে ওখানে আমরা করোনা পরীক্ষার উপযোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি ল্যাব তৈরি করবো।’

শিগগির এর কাজ শুরু হবে বলে জানান ডা. সাইফুল। তিনি বলেন, ‘এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে একটি মেশিন দিয়ে পরীক্ষা হচ্ছে। হাসপাতালের ল্যাবটি স্থাপন করলে দুটি মেশিনে পরীক্ষা শুরু করা গেলে কম সময়ে বেশি সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। এছাড়া আপৎকালীন পরিস্থিতিতে একটির বিকল্প হিসেবে অন্যটি ব্যবহার করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে একদিনের জন্যও আমাদের রাজশাহীতে নমুনা পরীক্ষা থেমে থাকবে না।’

রামেক হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ও সংসদ সদস্য বাদশা বলেন, ‘আমাদের মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ১ এপ্রিল থেকে যখন পরীক্ষা শুরু করে, তখন থেকে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার নমুনাই এখানে পরীক্ষা করা হচ্ছে। খুব শিগগির বগুড়ায় পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এতে করে এই বিভাগে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়বে। এর বাইরে আমরা রাজশাহী জেলাতেও সর্বোচ্চ সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করতে চাই। সে কারণে আরো একটি পিসিআর মেশিন স্থাপনের এই উদ্যোগ।’

বর্তমানে রামেক হাসপাতালে যে পিসিআর মেশিন দিয়ে পরীক্ষা চলছে, তাতে একদিনে সর্বোচ্চ ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। দুই ল্যাবে দুটি পিসিআর মেশিন একযোগে কাজ করলে প্রতিদিন ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করার সক্ষমতা অর্জন করবে রাজশাহী।

এদিকে সকালে রামেক হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) ভবনটি পরিদর্শন করেন ফজলে হোসেন বাদশা। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমান।

বাদশা জানান, ভেন্টিলেটর সুবিধাসহ আইসিইউকে করোনা চিকিৎসার জন্য পুরো প্রস্তুত করা হয়েছে। আরও ভেন্টিলেটর মেশিন আনার চেষ্টাও চলছে বলে জানান তিনি।

করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গেও এসময় কথা বলেন হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না, আমাদের এখানে কেউ করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসুক। এখনও পর্যন্ত আমাদের পরিস্থিতি ভালো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মহামারির ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিটাকে মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কাজেই করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য আমাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।’

তিনি চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিতদের প্রশংসা করে বলেন, ‘জাতির এই দুঃসময়ে আপনারাই হলেন প্রথম সারির যোদ্ধা। আপনাদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়ার জন্য আমরা সব সময়ই পাশে আছি।’