Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > শিরোনাম > রাজশাহীতে যেভাবে হবে করোনা চিকিৎসা

রাজশাহীতে যেভাবে হবে করোনা চিকিৎসা

পড়তে পারবেন 3 মিনিটে

।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

রাজশাহীতে কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ১০ পাতার এই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

রাজশাহীতে নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত করার পরীক্ষা কার্যক্রম শুরুর এক সপ্তাহ হতে চলেছে। এখনও পর্যন্ত এই জেলায় করোনা আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হননি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস মনে করেন, দ্রুত পরীক্ষা শুরুর কারণে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতির জন্য রাজশাহী বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এখনও কেউ শনাক্ত হয় নি, এটা ভালো খবর। আমরা সবকিছু বন্ধ করে দিয়েছি। নিজেরা সাবধানে থাকলে এবং বাইরে থেকে নতুন কেউ না ঢুকলে আমাদের পরিস্থিতি ভালো থাকবে বলে বিশ্বাস। কিন্তু তারপরেও এই সময়ের মধ্যে আমরা ভবিষ্যতের জন্য চিকিৎসার যথাসাধ্য ভালো প্রস্তুতি নিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।’

রামেক হাসপাতাল করোনা চিকিৎসা কমিটির প্রধান ডা. আজিজুল হক আজাদ জানান, পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া করোনা রোগীদের চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা অন্তত একটি বেসরকারি হাসপাতালকে এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সে লক্ষ্যে তারা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। শিগগির অনুমোদন মিলবে বলেও আশাবাদী তারা।

রামেক হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, নওদাপাড়ায় ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে চায় রামেক হাসপাতাল। তাদের পরিকল্পনা বলছে, এই বেসরকারি হাসপাতালটিতে রোগীদের জন্য অন্তত ৪০০ শয্যা মিলবে।

ডা. আজিজুল বলেন, ‘আমরা করোনার কনফার্ম রোগী যারা, তাদেরকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করবো। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলবে। সেখানে যাদের পরিস্থিতি একটু খারাপ মনে হবে, তাদেরকে আনা হবে রামেক হাসপাতালের করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে। তাদের মধ্যে যদি কারো পরিস্থিতি ক্রিটিক্যাল (জটিল) হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আমরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেবো।’

বিশ্বজুড়েই করোনা চিকিৎসায় ভেন্টিলেটর নিয়ে সংকটের কথা আলোচিত হচ্ছে। ডা. আজিজুল মনে করেন, তাদের হাতে যা আছে, তা দিয়ে মোটামুটি সংখ্যক সংক্রমনে জটিল করোনা রোগীদের ভেন্টিলেটর সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে আগে থেকেই ১০টি ভেন্টিলেটর ছিলো। সম্প্রতি আরও ৫টি আমাদের হাতে এসেছে। এনিয়ে আপাতত আমাদের হাতে ১৫টি ভেন্টিলেটর রয়েছে। আরও ৫টি ভেন্টিলেটর আসবে বলে শুনেছি।’

রামেক হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা জানান, শিগগির ওই ৫টি ভেন্টিলেটর চলে আসবে।

তিনি বলেন, ‘ওই ৫টা এলে আমাদের মোট ভেন্টিলেটরের সংখ্যা দাঁড়াবে ২০টি। এখানেই আমরা কিন্তু থেমে নেই। আমরা আরও ভেন্টিলেটর চেয়েছি। পরিস্থিতি অনুসারে আমরা প্রয়োজনে বাড়তি উদ্যোগও নেবো। কিন্তু আমরা চিকিৎসার জন্য যথাসাধ্য প্রস্তুত থাকতে চাই।’

বাদশা আরও বলেন, ‘করোনা মোকাবেলার জন্য কয়েক ধাপে চিকিৎসার স্থান প্রয়োজন হবে। সন্দেহভাজনদের আলাদা রাখা, পরীক্ষার পর পজিটিভদের সঙ্গে সঙ্গে আলাদা করে চিকিৎসা দেয়ার মতো যথেষ্ট জায়গা তৈরির জন্য আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। এর অংশ হিসেবে আমরা মিশন হাসপাতালটিকেও ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছি। সেখানে রোগীদের জন্য ৮০টি শয্যা রয়েছে। এর বাইরে সম্প্রতি নগরীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবনির্মিত বহুতল ভবনগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে মেট্রোপলিটন কলেজের নবনির্মিত একটি ৬তলা ভবন আমরা করোনা চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য রামেক হাসপাতালের কাছে হস্তান্তর করেছি। প্রয়োজন হলে অন্যগুলোও করা হবে।’

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, ইতোমধ্যে আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটিকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। একেকটি শয্যার মধ্যে প্রয়োজনীয় দূরত্ব রেখে কাপড় দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।

ডা. আজিজুল হক আজাদ জানান, আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রয়োজন অনুসারে রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও নেবুলাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে কী কী করা দরকার তা নিয়ে ধাপে ধাপে আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। খুটিনাটি বিষয়গুলোও যতটা সম্ভব আমরা নজরে নিয়েছি। সম্ভাব্য সমস্যাগুলো কীভাবে মোকাবেলা করবো, তাও নির্ধারণ করেছি।’

ডা. আজিজুল জানান, করোনা চিকিৎসায় সংশ্লিষ্টদের আলাদা দল গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা সেইসব দলে রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের একাধিক টিম লাগবে। কারণ কনফার্ম করোনা কেস ডিল করলে আমরা তাদেরকে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে পাঠাবো। সেক্ষেত্রে তারা নিজেদের বাসায়ও যাবেন না। তাদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’

ডা. সাইফুল জানান, চিকিৎসকদের সুরক্ষা উপকরণ নিয়ে তাদের কোনো সংকট নেই। করোনা চিকিৎসায় উপসর্গভিত্তিক ওষুধ নিয়েও তাদের প্রস্তুতি যথেষ্ট উল্লেখ করে হাসপাতালের এই উপপরিচালক বলেন, ‘আমরা সাধ্যমত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

ডা. আজিজুল বলেন, ‘সবমিলিয়ে করোনা চিকিৎসায় আমাদের যে প্রস্তুতি তা নিয়ে আমরা যথেষ্ট সন্তুষ্ট।’

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: