Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > শিরোনাম > মুক্তি পেলেন খালেদা জিয়া

মুক্তি পেলেন খালেদা জিয়া

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

।। বাংলাট্রিবিউন, ঢাকা ।।

দুই বছর এক মাস ১৬ দিন পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাসপাতাল) প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছোটভাই শামীম ইস্কান্দরের জিম্মায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নেওয়ার শর্তে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হলো বিএনপির চেয়ারপারসনকে।

মুক্তি প্রক্রিয়া শেষ করার পর বিকাল সোয়া ৪টার দিকে খালেদা জিয়া লিফটে করে হুইল চেয়ারে নিচে নেমে আসেন। এসময় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও হাসপাতালের নার্স এবং আনসার সদস্যরা ছিলেন। ৪টা ২০ মিনিটে তাকে নিয়ে স্বজনরা হাসপাতাল থেকে রওনা হন। 

বিকাল ৫টা ১৬ মিনিটে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর রোডের বাসভবন ফিরোজা’য় প্রবেশ করেন। এ সময় করোনা পরিস্থিতি উপেক্ষা করেই বাড়ির বাইরে ভিড় জমান নেতাকর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা এবং দলের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও কেউ তা পরোয়া করেনি।

গাড়ি বাসার প্রাঙ্গণে পৌঁছামাত্রই সেখানে তার চিকিৎসক, পরিবারের কয়েকজন সদস্য, বোন সেলিমা ইসলাম, দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতা তাকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর তাকে হুইল চেয়ারে করে গাড়ি থেকে বের করা হয়। বাসার ভেতরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমানসহ অনেকে রয়েছেন। করোনা পরিস্থিতিতে সবার হাতেমুখে সুরক্ষাবস্তু থাকলেও বাইরে ছিল নেতাকর্মীদের উপেক্ষা। চলছিল স্লোগানও। বাড়ির সামনে বুধবার সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের অবস্থান বাড়তে থাকে। বিকালে খালেদা জিয়া যখন বাড়িতে প্রবেশ করেন, ওই সময় করোনা সতর্কতা উপেক্ষা করে সহস্রাধিক নেতাকর্মী অবস্থান নেয় গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডে।

এর আগে বুধবার বিকাল সোয়া চারটার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে বেরিয়ে আসেন খালেদা জিয়া। এদিন সব প্রক্রিয়া শেষ করে বিকাল তিনটার কিছু পর তাকে মুক্ত করে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর কারওয়ানবাজার মোড় হয়ে ফার্মগেট হয়ে মহাখালী ফ্লাইওভার হয়ে গুলশানের দিকে যায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, মঙ্গলবার দলীয় প্রধানের বাসভবন ধোয়ামোছার কাজ শেষ করা হয়। ইতোমধ্যে তার বাসায় পরিবারের সদস্যরা এসেছেন।

প্রসঙ্গত, কারাগারে যাওয়ার আগে ৮ ফেব্রুয়ারি ফিরোজা থেকেই আদালতের উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ২০১২ সালের ২১ এপ্রিল গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর রোডের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় ওঠেন তিনি। এই বাড়িটি বিএনপি নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর কামরুল ইসলামের ছেলে তানভীর ইসলামের। বাড়িটিতে প্রায় সাতটি বেডরুম, লিভিং রুম, একটি সবুজ লন, বাগানসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আছে। ক্যান্টনমেন্টের মঈনুল হোসেন রোডের বাড়িটি আদালতের রায়ে হারানোর পর কিছু দিন খালেদা জিয়া তার ভাই শামীম ইস্কান্দারের বাড়িতে ছিলেন। এরপর ফিরোজায় বসবাস শুরু করেন তিনি। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এই বাড়ি থেকেই পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের অস্থায়ী আদালতে এসেছিলেন তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে সাজা হওয়ায় সেখান থেকে সরাসরি তাকে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: