Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > করোনা আপডেট > বিধিবিধান মানলে দ্রুতই করোনামুক্তি দেখছেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী

বিধিবিধান মানলে দ্রুতই করোনামুক্তি দেখছেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে

।। জো মজিঙ্গো, লস এঞ্জেলস টাইম ।।

নোবেল বিজয়ী স্টানফোর্ডের বায়োফিজিসিস্ট মাইকেল লেভিট কোভিড ১৯ আক্রান্তদের সংখ্যা নিয়ে জানুয়ারি থেকে বিশ্লেষণ শুরু করেন। অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের ধারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি চীন ঠিক কতোটা সময়ের মধ্যে এই মহামারী সংক্রমন কাটিয়ে উঠবে তার সঠিক পূর্বধারণা দেন।

এখন তিনি আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে পর্যবেক্ষণ শেষে নিজের মতামত দিয়েছেন।

অনেকেই এই মহামারি অনেক দীর্ঘ হবে বলে মত দিলেও লেভিট বলেছেন, করোনার ক্ষেত্রে এমনটা হবে না। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে এটি বড় কোনো সমস্যার সৃষ্টি করবে না বলে মনে করেন তিনি।

লেভিট বলেন, ‘আমাদের যা দরকার তা হচ্ছে আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা ভালোর দিকে যাচ্ছি।’

বলেন, প্রাথমিকভাবে চীনের হুবেই প্রদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার প্রতিদিন ৩০ শতাংশ হারে বাড়ছিল। কিন্তু ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আক্রান্তের সংখ্যা সরলরৈখিকভাবে কমতে শুরু করে এবং মৃতদের সংখ্যাও একইভাবে কমছিল।

এভাবে লেভিট এই ‘বক্ররেখার নাটকীয় পরিবর্তনটি মধ্যবিন্দু চিহ্নিত করেছিলেন’। যার মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, পনেরো দিনের মধ্যে চীনের পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।

এখন চীনে করোনাআক্রান্তের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। দেশটিতে রোববার নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৯, যারা বিদেশ ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন।

লেভিট বলেন, করোনা নিয়ে কথা উঠলেই এটি মানুষকে অনেক ভয় দেখায়। কারণ প্রতিদিনই তারা নতুন নতুন আক্রান্তের খবর পায়। তবে বিষয় হচ্ছে, সংক্রমণের হার ধীর হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো মহামারিটির সমাপ্তি খুব কাছাকাছি এসে গেছে। একই সঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মার্চ মাসের শেষে ভাইরাসটি চীন থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রাদুর্ভাবকে যদি উন্মুক্ত সড়কে গাড়ি চালানোর সঙ্গে তুলনা করেন তাহলে দেখবেন শুরুতে যে গতিতে চলছিল এখন সেই গতি আগের মতো নেই। এ থেকে বোঝা যায় যে, মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির হার পরের সপ্তাহের তুলনায় আরও কমবে।

লেভিট চায়না ডেইলিকে জানিয়েছিলেন, তিন সপ্তাহ পর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠবে এবং চীনে ৮০ হাজারের মতো লোক আক্রান্ত হবে এবং ৩২৫০ জনের মতো লোকের মৃত্যু হবে। তার সেই পূর্বাভাসটি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

লেভিট আরও দাবি করেন, বেশিরভাগ ব্যক্তির শরীরে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ইতিমধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের মধ্য অবস্থা অতিক্রম করেছে এবং ইতালিতে বয়স্ক জনসংখ্যার হার বেশি থাকায় দেশটিতে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

৭৮টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি বলেছেন, অবস্থা এখনো গোলমেলে কিন্তু ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতির উন্নতির সুস্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে।

তিনি মানুষকে করোনার নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। লেভিট বলেন, যারা করোনায় আক্রান্তের খবর নিজ থেকে জানাচ্ছেন তাদেরকে হিরো হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। এছাড়া এর মাধ্যমে পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে না।

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: