।। এনডিটিভি, নয়াদিল্লি ।।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে চলা আইনি জটের গেরো পেরিয়ে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় ফাঁসি হল নির্ভয়া কাণ্ডের ৪ অপরাধীর। এই প্রথম দিল্লির তিহার জেলে একটি নির্দিষ্ট মামলায় একসঙ্গে ৪ অপরাধীর ফাঁসি হল, ভারতের ইতিহাসেও এই ঘটনা নজিরবিহীন।

মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করা হল আসামি অক্ষয় ঠাকুর (৩১), পবন গুপ্তা (২৫), বিনয় শর্মা (২৬) ও মুকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে। স্বস্তি পেল এত বছর ধরে আদালতে চক্কর কাটা নির্ভয়ার পরিবার। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লির ২৩ বছর বয়সী এক প্যারা মেডিকেল ছাত্রীকে নির্মমভাবে গণধর্ষণ করে রাজপথে ছুঁড়ে ফেলে দেয় মোট ৬ দুষ্কৃতি। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনের মধ্যে একজন নাবালক বলে সংশোধনাগার থেকে ৩ বছর পরে ছাড়া পেয়ে যায় । আরেক অভিযুক্ত রাম সিং জেলের মধ্যেই আত্মহত্যা করে। বাকি ৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে আদালত।

ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর নির্ভয়ার মা আশা দেবী বলেন, “নির্ভয়ার মা হিসাবে আমি গর্বিত”। সবকিছুর পরেও শেষপর্যন্ত যেভাবে ৪ দোষীকে ফাঁসিতে ঝোলালেন জল্লাদ পবন তাতে হাসি ফিরেছে নির্ভয়ার পরিবারের মুখে।

যদিও এই ফাঁসি কার্যকর করা নিয়ে চলে দীর্ঘ টালবাহানা। এর আগে মোট ৩ বার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেও নানা রকম আইনি জটিলতার কারণে তা খারিজ করতে বাধ্য হয় দিল্লির এক আদালত। নির্ভয়া-কাণ্ডের ওই ৪ অপরাধীকে সব আইনি বিকল্পের পথ খুলে দিতে এই পথে হেঁটেছিল দেশের আদালত। শেষ পর্যন্ত আজ অর্থাৎ ২০ মার্চ ফাঁসি দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন করে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়। 

ফাঁসির আগের রাতে নির্ভয়া মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত ওই ৪ আসামি খেতে অস্বীকার চায়নি এবং তারা সারা রাত জেগে ছিল, জানিয়েছেন তিহার জেলের আধিকারিকরা। এই ফাঁঁসি কার্যকরের আগে গোটা তিহার জেলকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে রাখা হয়। গোটা জেল চত্বরই ফাঁসির আগের রাতে লকডাউন পরিস্থিতিতে ছিল। তিহার জেল সূত্রে খবর, এশিয়ার বৃহত্তম এই কারাগারের কোনও বন্দিই এদিন চোখের পলকের জন্যেও ঘুমাতে পারেনি। সবাই যেন প্রহর গুণছিল নির্ভয়া কাণ্ডের আসামিদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার জন্যে।

বৃহস্পতিবারই যখন আইনের সব পথ বন্ধ হয়ে গিয়ে একরকম নিশ্চিত হয়ে যায় ৪ অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার বিষয়টি, তখন নির্ভয়ার মা আশা দেবী বলেন, “অবশেষে দোষীদের ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। এবার আমি শান্তি পাব। আমার মেয়ের আত্মাও শান্তি পাবে”।