।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

দেশের সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সব ধরনের কোচিং বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সোমবার (১৬ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার এমনিতেই ছুটি, পরদিন থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের হোস্টেল বন্ধ থাকবে। গ্রীষ্মকালীন ছুটি বা রোজার ছুটি রয়েছে। প্রয়োজনে সেই ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ছুটির সময়ে সব ধরনের কোচিং সেন্টারও বন্ধ থাকবে।’

স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এই বিবেচনায় তারা তাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

কোচিং বন্ধ করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করছি, সেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রতিদিন কোচিংয়ে থাকে—এটাকে আমরা অ্যালাউ করছি না, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কোচিং বন্ধ থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকছি না মানে বাসায় (কোচিং) থাকছি। এটাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোচিং অবশ্যই বন্ধ থাকবে।’

দীপু মনি বলেন, ‘শিক্ষক-অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানাবো, শিক্ষার্থীদের বাড়িতে থাকা অবশ্যই  নিশ্চিত করবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ তার মানে এই নয় যে, সবাই তারা ঘুরে বেড়াবে, তা নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে করোনা থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তাই অভিভাবকরা যেন নিশ্চিত করেন, শিক্ষার্থীরা যার যার বাড়িতে থাকবেন। শিক্ষার্থীসহ পরিবারের সবাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যা রয়েছে তা নেবেন। শিক্ষার্থীরা বাড়িতে থাকবে, সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে সরকার থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাজেই এটি সবারই খেয়াল রাখতে হবে।’

বাংলাদেশে আমাদের প্রবাসী কয়েকজন এসেছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। তার আগে করোনার কোনও কেস আমরা পাইনি। বাইরে থেকে আর কোনও রোগী যেন না আসতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ে যারা এসেছেন, তারা স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন, সেই শর্তে তাদের ছাড়া হয়েছে। সেটি নিশ্চিত করতে হবে তাদের পরিবারকে, যেন তারা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকেন। কোয়ারেন্টাইন না বুঝে আত্মীয়-স্বজনরা দেখতে আসছেন, এরকম যেনও না ঘটে। যাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা, তারা বাইরে বেরোলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ‘

দেশে এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি আছে তার বেশি যেন না হয়। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে

এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে পরে আমরা সিদ্ধান্ত দিতে পারবো। এরকম একটি জনস্বাস্থ্যমূলক বিষয় থাকে, তাই যখন যে পরিস্থিতি, তখনকার সেই পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এখনও সে সিদ্ধান্ত আমরা নেইনি। আমরা বারবারই বলেছি, সতর্কতামূলক, প্রতিরোধমূলক আমাদের যা কিছু প্রয়োজন হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবো। আবার আগ বাড়িয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই, সেই সিদ্ধান্ত আমরা নিতে যাবো না।’

শিশু আক্রান্তের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত আগে নিয়েছি। আইইডিসিআর পরে ব্রিফ করেছে।  সারা পৃথিবীর চিত্র দেখেন—শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার কম, মৃত্যুর হার আরও কম।’

লার্নিং

ই-লার্নিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বাড়িতে বসেই অনলাইনের সহায়তায় নিজেদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে পারবে।’