।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

পুলিশের প্রতিবেদন গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে হাফেজ আহম্মেদ নামের এক ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেয়ায় সংশ্লিষ্ট দফতরের এক সহকারী পরিচালকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দায়েরকৃত মামলার আসামীরা হলেন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবজাউল আলম, ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট গ্রহীতা হাফেজ আহম্মেদ, পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহায়ক রঞ্জু লাল সরকার, অফিস সহায়ক হুমায়ুন কবির, উচ্চমান সহকারী দেলোয়ার হোসেন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আলমাস উদ্দিন, দপ্তরি ইব্রাহিম হোসেন ও মুদ্রাক্ষরিক আব্দুল ওয়াদুদ।

তাদের সবার বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে লাভবান হবার আকাঙ্ক্ষায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেয়ার কারণে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/২০১ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ চৌধুরীর দায়ের করা এজাহারে জানা যায়, ভারতীয় নাগরিক হাফেজ আহম্মেদ ২০১৭ সালের ৬ জুন রাজশাহী বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে নিজেকে রাজশাহীর সপুরা এলাকার বাসিন্দা হিসেবে দাবি করে পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে প্রি-এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করেন।

অফিস সহায়ক রঞ্জু লাল সরকার পরদিন কোনো ব্যাংক ফি গ্রহণ ছাড়াই বিধিবহির্ভুতভাবে তার আইডি থেকে আবেদনটির প্রি-এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করেন। এই পাসপোর্টটি করে দেয়ার জন্য এক ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তাদের মধ্যে অবৈধ লেনদেন হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রঞ্জু লাল নিজেই জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে ব্যাংকে পরিশোধ করেন।

এর বিনা বিপত্তিতে অন্যদের সহায়তায় বায়ো এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করা হয়। এরপর পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হয় নগর পুলিশের বিশেষ শাখায়। সেখান থেকে তদন্ত শেষে হাফেজ আহম্মেদকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। কিন্তু পাসপোর্ট কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হুমায়ূন কবির সেই প্রতিবেদন আর সিস্টেমে উল্লেখ করেননি। ফলে ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট আবেদনপত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন মডিউলে চলে যায়। সহকারী পরিচালক আবজাউল আলম ডাটা কন্ট্রোল এন্ট্রি অপারেটর আলমাস উদ্দিনের মাধ্যমে ৩০ আগস্ট প্রদত্ত আবেদনে বাড়ির নম্বর সংশোধন করে পাসপোর্ট প্রদানের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। ৭ সেপ্টেম্বর হাফেজ আহম্মেদ পাসপোর্টটি গ্রহণ করেন।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, হাফেজ আহম্মেদ বিকিউ ০১৭৮২৬০ নম্বরের সেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমানের বিজি ০০৩৫ ফ্লাইটযোগে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করে। এরপর আর তার বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো রেকর্ড নেই।