।। বাংলাট্রিবিউন, ঢাকা ।।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, করোনা শনাক্ত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদেশ থেকে আসা সবাইকেই থার্মাল স্ক্যানারের মধ্য দিয়ে আসতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যারা বিদেশ থেকে আসছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। তাদের নিজে উদ্যোগে হোম কোয়ারেন্টাইনের পরামর্শ দিচ্ছি, অনুরোধ জানাচ্ছি। মানুষ এখন অনেক সচেতন। বিদেশ থেকে কেউ আসলে তারা, তাদের আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীরাও আমাদের হটলাইনে ফোন করে পরামর্শ চাচ্ছেন।’

আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। সাংবাদিকরা করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে মন্ত্রী তাদের জবাব দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডাক্তারের সংখ্যা ছিল ১০ জন, এখন ৩০ জন। ডেস্ক ছিল দুটি। এখন চারটা। কাজেই জনবল স্বল্পতার অভিযোগ করা সমীচীন হবে না। তবে এরপরও সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে।’

তিনি জানান, সামিট গ্রুপ পাঁচটি থার্মাল স্ক্যানার অনুদান হিসেবে দিয়েছে, এগুলো বিভিন্ন বন্দরে পাঠানো হচ্ছে।

দেশে নতুন কোনও রোগী শনাক্ত হয়নি বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, যে তিন জনের দেহে করোনা পাওয়া গিয়েছিল তাদের মধ্যে দুই জন এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। সর্বশেষ পরীক্ষায়ও তাদের দেহে কোনও ভাইরাস পাওয়া যায়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দেওয়া নির্দেশনা বাংলাদেশে মানা হয়েছে কিনা-এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ দুই মাস আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। কারণ থার্মাল স্ক্যানারগুলো অর্ডার করা হয়েছে আগেই। এগুলো এখন আসছে আর লাগানো হচ্ছে। আমরা সম্পূর্ণভাবে সব নির্দেশনা ফলো করছি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

করোনা মোকাবিলায় সরকার স্কুলসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ভাবছে কিনা- এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু স্কুলগুলো নয়, দেশের বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কারখানাগুলোতে যে বিপুল পরিমাণ শ্রমিক কাজ করে তাদের বিষয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভাবছে। স্কুলসহ সব জায়গায় হ্যান্ড সেনিটেশন করার জন্য বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় নিয়ে বৈঠক করে স্ব স্ব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে সাবান দিতে হাত ধুলেও হ্যান্ড সেনিটেশন হয়।’