।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

দুই মেয়াদে জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা হাভিয়ার পেরেজ দে কুইয়া মারা গেছেন।

বুধবার পেরুতে নিজ বাড়িতেই শতবর্ষী এ কূটনীতিক ও রাজনীতিক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে তার ছেলে ফ্রান্সিসকোর বরাত দিয়ে স্থানীয় রেডিও স্টেশন আরপিপি জানিয়েছে।

১৯৮২ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত জাতিসংঘ প্রধানের দায়িত্বে থাকা হাভিয়ার লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন শান্তিচুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন।

আট বছর ধরে চলা সংঘাতের পর ১৯৮৮ সালে তার মধ্যস্থতাতেই ইরান-ইরাক যুদ্ধবিরতিতে গিয়েছিল। এ চুক্তিকে হাভিয়েরের অন্যতম কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হয়।

লিমার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে ডিগ্রি নেওয়ার পর হাভিয়ার পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।

ইউরোপ ও লাতিনের বিভিন্ন দূতাবাসে কাজ করা হাভিয়ার ১৯৪৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনে দেশের প্রতিনিধি দলেও ছিলেন।

তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন; মধ্যস্থতা করেছেন ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যকার শান্তিচুক্তিতেও।

১৯৮১ সালে লাতিন আমেরিকার প্রথম কোনো ব্যক্তি হিসেবে তিনি জাতিসংঘের পঞ্চম মহাসচিব হন।

তার আমলেই আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত বাহিনী সরে যায়; দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে স্বাধীনতা পায় নামিবিয়া।

১৯৯৫ সালে হাভিয়ার পেরুর প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করেও আলবার্তো ফুজিমোরির কাছে হেরে যান।

ফুজিমোরি ২০০০ সালে পদত্যাগ করার পর যে অন্তর্র্বতী সরকার গঠিত হয়, হাভিয়ার তাতে প্রথমে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

পরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আলেসান্দ্রো টলেডো হাভিয়েরকে ফ্রান্সে পেরুর রাষ্ট্রদূত করে পাঠান।

১০০ বছর বয়সে মারা যাওয়া এ সাবেক জাতিসংঘ প্রধানের শেষকৃত্য শুক্রবার করার পরিকল্পনা চলছে বলে তার পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

হাভিয়েরের মৃত্যুতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও পেরুর প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারা গভীর শোক জানিয়েছেন।