।। বাংলানিউজ, ঢাকা ।।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্টের (টিকফা) আওতায় গঠিত টিকফা ফোরামের পঞ্চম বৈঠক শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকাল ১০টায় এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলের ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টিটিভ ক্রিস্টোফার উইলসন।

এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্টেক হোল্ডাররা রয়েছেন বৈঠকে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে মার্কিন বিনিয়োগ, এলডিসি উত্তরণের পরও যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাজার সুবিধা বহাল রাখে সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। এছাড়া বরাবরের মতো এবারও বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পুনরায় বহাল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বিষয়ে গুরত্ব দেওয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল দিতে চায় সরকার।

জানা গেছে, এবারের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যবসা সহজীকরণ, মার্কেট এক্সেস, ট্যারিফ পুনঃনির্ধারণ, মেধাস্বত্ব, ডিজিটাল ইকোনমি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা এবং শ্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ সভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারিত করার বিষয়ে অনুরোধ জানানো হবে। এর আগে বিশেষ করে নার্স, মিডওয়াইফসহ অন্য সেবা খাতে মোড-৪ এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ সহজীকরণে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশে বিরাজমান বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যাদি তুলে ধরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য অনুরোধ করা হবে। বাংলাদেশি পণ্য বিশেষ করে গার্মেন্টস পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা চুক্তি (টিকফা) কার্যকর করতে এবারের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দল।

জানা গেছে, একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয় বাংলাদেশ থেকে। বাণিজ্য ঘাটতি বরাবরই বাংলাদেশের অনুকূলে। তবে জিএসপি সুবিধা বাতিল, পোশাকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করা, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উচ্চহারে শুল্ক আরোপসহ নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাধার মুখে পড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্ট (টিকফা)’র পঞ্চম সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যদিও পাঁচ বছর আগে করা এ ফোরামের অগ্রগতি নিয়ে হতাশাও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। কারণ এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো বিনিয়োগ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও বাংলাদেশ এখন অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। টিকফা বৈঠকে এবার এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

এদিকে তুলা পরীক্ষার শর্ত শিথিল চায় যুক্তরাষ্ট্র। এবারের টিকফা ফোরামের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে প্রথমেই আছে মার্কেট অ্যাকসেস বা বাজার প্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে তুলা রপ্তানির সুবিধার জন্য দেশটি এখানে আমদানি করা তুলা পরীক্ষার শর্ত শিথিলের প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে আমদানি করা মার্কিন তুলায় জীবাণু সংক্রমণের বিষয়ে দুই ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র এ পরীক্ষার ধাপ কম দেখতে চায়।

এছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরোপিত করপোরেট করহারও অনেক বেশি বলে মনে করছে দেশটি। এ কর কমানোর বিষয়েও আলোচনা করতে চায় তারা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহজ কর অবকাশ সুবিধা, কম শুল্কে যন্ত্রপাতি আমদানি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শতভাগ সমান সুবিধা, বাধাহীন এক্সিট পলিসি, মুনাফা নিজ দেশে নেওয়াসহ নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ৮ কোটি তরুণ জনশক্তি এবং ১৬ কোটি ক্রেতার বিশাল বাজার বিনিয়োগকারীদের সহায়ক হবে।

এর আগে প্রতিনিধিদলের প্রধান দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টিটিভ ক্রিস্টোফার উইলসন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন। ওই সাক্ষাতের সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ দেশে তাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায়। আর এ কারণে বাণিজ্য সহজীকরণ নীতি প্রত্যাশা করছে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা।