।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ৩২২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে স্বাগতিকরা করেছে ৬ উইকেটে ৩২১ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ সংগ্রহ এটি। বুলাওয়েতে আগের সর্বোচ্চ স্কোরটি ছিল ৮ উইকেটে ৩২০ রান। 

টস জিতে প্রত্যাশিতভাবে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে বাংলাদেশ। মূলত ওপেনার লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিই গড়ে দিয়েছে বড় স্কোরের ভিত। দুর্ভাগ্য পায়ের পেশীতে টান পড়ায় ব্যক্তিগত ১২৬ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরেছেন। পরে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিঠুন ও শেষ দিকে সাইফউদ্দিনের মিনি ঝড়ে।

যদিও দুই ওপেনারে শুরুটা ছিল ঢিমে-তালে। লিটন ধীরে ধীরে আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলা শুরু করলেও তামিম খেলেছেন খুবই ধীর গতিতে। ১৩তম ওভারে অভিষেক হওয়া ডানহাতি অফস্পিনার ওয়েসলি ম্যাডেভরে তাকে ফাঁদে ফেলেন এলবিডাব্লিউর। তামিম রিভিউ নিলেও অনফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থেকেছে। তার বিদায়ে ভাঙে ৬০ রানের উদ্বোধনী জুটি।

সর্বশেষ ৪ ওয়ানডেতে তামিমের স্কোর ছিল ৮, ০, ১৯ ও ২ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি, বিদায় নিয়েছেন ২৪ রানে। তবে লিটনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত সমৃদ্ধ হতে থাকে স্কোরবোর্ড। নাজমুল হোসেন শান্ত বেশ কিছুক্ষণ সঙ্গ দিলেও ইনিংস বড় করতে আবারও ব্যর্থ তিনি। ২৯ রানে ব্যাট করতে থাকা এই ব্যাটসম্যানকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেছেন মুতুম্বোডজি। এর আগে ৮০ রানের দুর্দান্ত এক জুটি উপহার দিয়েছেন লিটন ও শান্ত। এই জুটি ভাঙার পর সঙ্গ দেন মুশফিকুর রহিম। ৪২ রান আসা এই জুটি ভেঙে দিয়েছেন ডোনাল্ড টিরিপানো। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে মুশফিক ফিরেছেন ১৯ রানে।

অপরপ্রান্ত নড়বড়ে হলেও লিটনকে আটকানো যায়নি কোনওভাবে। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। যার সর্বশেষ ও একমাত্র সেঞ্চুরিটি ছিল ২০১৮ সালে এশিয়া কাপ ফাইনালে। বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অল্পের জন্য পাননি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। অপরাজিত ছিলেন ৯৪ রানে। এই ম্যাচে অবশ্য কোন ভুল করননি।

সেঞ্চুরির পর অবশ্য বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে স্বস্তি পাচ্ছিলেন না লিটন। পায়ে সমস্যা হচ্ছিল। ৩৬.২ ওভারে ফিজিওর সঙ্গে আলোচনা করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। ততক্ষণে স্কোর ২০০ ছাড়ায় বাংলাদেশের। লিটন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরেছেন ক্যারিয়ার সেরা ১২৬ রান করে। তার ১০৫ বলের ইনিংসটিতে ছিল ১৩টি চার ও ২টি ছয়।

লিটনের মাঠ ছাড়ার পর কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছিল রানের চাকা। শেষ ১০ ওভারে তা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মিঠুন। এই জুটিতে আসে ৬৮ রান। আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগে ৪৬ ওভারে এই জুটি ভেঙে দিয়েছেন পোফু। মাহমুদউল্লাহকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেছেন তিনি।

মাহমুদউল্লাহ ২৮ বলে ৩২ রান করে ফিরেছেন। তার বিদায়ের পর মিঠুন তুলে নিয়েছেন পঞ্চম হাফসেঞ্চুরি। মিঠুন অবশ্য এর পরেই সাজঘরের পথ ধরেছেন। তাকে লোয়ার ফুলটসে এলবিডাব্লিউ করেছেন পোফু। এর পরেও স্বাগতিকদের রানের চাকা আটকাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।মেহেদী ৭ রানে ফিরলে শেষ দিকে ঝড়ো গতিতে রান তুলেছেন সাইফউদ্দিন। ১৫ বলে ৩ ছক্কায় করেছেন ২৮ রান। পোফুর শেষ ওভারেই আসে ৩ ছয়। তাতে ৬ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩২১ রান।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ৬৮ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন ক্রিস পোফু। একটি করে নিয়েছেন কার্ল মাম্বা, ওয়েসলে ম্যাডেভরে, ডোনাল্ড টিরিপানো ও টিনোটেন্ডা মুতুম্বোডজি।